কোরবানির হাট নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৪০

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলমান অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১২ জুন) সন্ধার দিকে উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের খামারজুগনি গ্রামের মজুমদার বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীরা জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পশুর হাট থেকে অন্তত ৩০টি গবাদিপশু হারিয়েছে। সব মিলে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা। উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর থেকে ওই এলাকার ওবায়দুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মজুমদার হাট বসান। সেখানে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি ছিল না। কিন্তু ওবাইদুল ইসলাম অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে মজুমদার বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসান। খবর পেয়ে পুলিশ অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করতে গেলে ইজারাদারের লোকজন পুলিশকে বাধা দেয়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে ইজারাদারের লোকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পযার্য়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশসহ অন্তত ৪০ কোরবানির হাট নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৪০জন আহত হয়েছেন। বিক্রির জন্য হাটে আনা অন্তত ৩০টি গরু-ছাগল হারিয়েছে।

হাটে আসা শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করে চালান করার জন্য যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে হাটের লোকজন সবাই দৌড়। এসময় আমার ক্রয় করা গুরুটি ছুটে যায়। আর পাইনি। এখন কোরবানি দিব কি দিয়ে। পায়ে ব্যথা পেয়েছি। অনেক লোকজন আহত হয়েছে।

আনছার আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, একটি ষাঁড় গরু হাটে বেচার জন্য নিয়ে এসে হারিয়ে ফেললাম। হাটে অনেক মানুষ, পুলিশের গুলি, বাঁচার জন্য কে কোথায় ছুটছে। হাত থেকে গরুটা কোথায় গেলো খুঁজে পাচ্ছি না। গরু হারিয়ে গেলে আমার সব শেষ হবে। এ ক্ষতিপূরণ আমাকে কে দিবে?

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ইজারাদারের একজন বলেন, কোরবানির পশুর হাট বসানো নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে আমরা হাইকোর্টে যাই। হাইকোর্ট থেকে ইউএনও কাছে একটি উকিল নোটিস পাঠানো হয়। এদিকে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে। বেচাকেনার সময় হচ্ছিল। তাই অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়। ঈদকে সামনে রেখে এর আগে দুইটি হাট বসানো হয়েছিল। পুলিশ টাকা দাবি করেছিল কিন্তু টাকা না দেওয়ায় হাট ভেঙে দিয়েছে আজ।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট-পাটকেল  ছুড়ে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিন আউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এরমধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ—খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।