সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
মূলত কোরবানির ঈদ ঘিরেই বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। কারণ ঈদে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কোরবানির মাংসে আদা অপরিহার্য মসলা এবং পরিমাণেও বেশি লাগে। বিশেষ করে গরুর মাংসে বেশি আদা ব্যবহার হয়। এ ছাড়া কোরবানির ঈদে পেঁয়াজ-রসুনের চাহিদাও বেশি থাকে। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একটু আগে থেকেই এসব মসলার দাম বেড়েছে। গত রোজার ঈদের পর থেকেই আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম ধাপে ধাপে বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে দারুচিনি, জিরা ও এলাচের মতো গরম মসলাও।
প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। রসুন বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদা প্রতি কেজিতে ৮০ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এক সপ্তাহ আগেও ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এক মাস আগে ছিল ৬০ টাকা। রসুনের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে এখন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা আদার দাম বেড়েছে হয়েছে। এক সপ্তাহ আগের ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া আদা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়।
তবে ক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।
পরীবাগের বাসা থেকে হাতিরপুল বাজারে গিয়েছিলেন বিল্লাল হোসাইন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মতো মানুষের জন্য বাজার-সদাই করা কষ্টের হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা সীমিত আয়ের মানুষ তাদের জন্য। কয়েক দিন ধরেই পেঁয়াজের কেজি ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় এসে স্থির হয়ে আছে, যা এক মাস আগেও কিনেছি ৬৫ টাকায়।’
একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরায় এর প্রভাব পড়েছে। কারওয়ান বাজারের নোয়াখালী স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুলাইমান জানান, দুদিনের ব্যবধানে ভারতীয় আদার দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা। চায়না আদা ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা। দেশি রসুন ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা বড় রসুনের কেজি ২৪০ টাকা।
বর্তমানে প্রতি কেজি জিরার দাম ৭৫০ থেকে ৮০০, এলাচ ৪ হাজার, লবঙ্গ ১ হাজার ৬০০, হলুদ ও মরিচের গুঁড়ো ৩৫০ ও ধনেগুঁড়ো ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের গরম মসলা ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়লে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তা ছাড়া এ বছর রোজার ঈদের আগে থেকেই ধাপে ধাপে মসলার দাম বেড়েছে। তাই আমাদেরও ধাপে ধাপে মসলার দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।’
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে পেঁয়াজের দাম ৬৪ শতাংশ, রসুনের দাম ৬২ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত বছরের কয়েক মাস আদার দামও বেশি ছিল। পরে কমে আবারও বেড়েছে। গত এক বছরে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ।
শান্তিনগর সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদের প্রভাবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেগুন, টমেটোর মতো সবজি এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা। তা ছাড়া বাজারটিতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে। পেঁপে ৪০ থেকে ৪৫, উচ্ছে ৫০, করলা ৬০-৭০, পটোল ৩৫-৪০, ঢেঁড়স ৩৫-৪০, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০, চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙে ৪০-৫০, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০, কাঁকরোল ৬০ ও কচুমুখী ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শান্তিনগর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে মানুষ বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে। এ কারণে বাজারে তেমন একটা চাপ নেই। ফলে সবজির বাজারে এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০, ধনেপাতার কেজি ৬০ ও শসার কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
মুরগি ও ডিমের বাজার ঘুরে তেমন কোনো স্বস্তির খবর পাওয়া যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ ও দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।