রেকর্ডে বিধ্বস্ত ওমান, সুপার এইটের জট সহজ ইংল্যান্ডের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় দলটি। তবে কাল রাতে রীতিমতো ‘আহত বাঘ’–এর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ওমানের ওপর। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ওমানকে মাত্র ৪৭ রানে গুটিয়ে দেন জফরা আর্চার, মার্ক উড আর আদিল রশিদরা। যে রান তাড়া করতে নেমে জস বাটলার, ফিল সল্টরা সময় নিয়েছেন মাত্র ১৯ বল।

৯৯ বলের মধ্যে খেলা শেষ করে ইংল্যান্ড শুধু ৮ উইকেটের জয়ই তুলে নেয়নি, সুপার এইটে ওঠার জন্য রান রেটও বেশ বড় অঙ্কে বাড়িয়ে নিয়েছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলে এবং ইংল্যান্ড নামিবিয়াকে হারাতে পারলে বাটলারদের পরের ধাপে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

আদিল রশিদ ৪ ওভারে ১১ রানে নেন ৪ উইকেট। উড ও আর্চারের শিকার ১২ রানে ৩টি করে উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের তিন বোলার তিন বা তার বেশি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে অলআউট করল।

ইংল্যান্ডের রেকর্ড বৃষ্টির অবশ্য এখানেই শেষ নয়। রান তাড়ায় বিলাল খানের প্রথম দুই বলেই ছয় হাঁকান সল্ট। বিশ্বকাপ তো বটেই, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই ইনিংসের প্রথম দুই বলে ছয় মারার প্রথম ঘটনা এটি। 

সল্ট অবশ্য প্রথম দুই বলে ছয় মেরে তৃতীয় বলেই আউট হয়ে যান। পরের ওভারে আউট হন উইল জ্যাকসও। তবে রান রেট বাড়িয়ে নেওয়ার ভাবনায় জিততে সময় নিতে চাননি বাটলার। তৃতীয় ওভারে বিলালের ৬ বল থেকে ৪টি চার আর একটি ছয় মেরে ২২ রান তুলে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ফাইয়াজ বাটকে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন জনি বেয়ারস্টো। ইংল্যান্ড ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করে ৮ উইকেট ও ১০১ বল বাকি রেখে।

বলের দিক থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয় এটি। পেছনে পড়েছে ২০১৪ আসরে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৯০ বল বাকি রেখে তোলা জয়। ১০ বছর আগের সেই ম্যাচে খেলা হয়েছিল মোট ৯৩ বল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯ বল খেলা হলো ইংল্যান্ড-ওমান ম্যাচে।

ইংল্যান্ডের ১০১ বল বাকি থাকতে জয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্যদেশের সবচেয়ে বড় জয়, এখানে পেছনেও পড়েছে শ্রীলঙ্কা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচই। 

এই জয়ের পর রানরেটে তারা এগিয়ে গেছে অনেকটাই। উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। পেছনে ফেলেছে স্কটল্যান্ডকে। 

নিজেদের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড যদি নামিবিয়াকে হারায় আর স্কটল্যান্ড যদি অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে তাহলেই ইংলিশরা চলে যাবে সুপার এইটে। অস্ট্রেলিয়া ধীরে খেলে স্কটিশদের সুবিধা করে দেবে- এই কৌশল আর কাজে দেবে না।