যুক্তরাজ্যে আজ রবিবার পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমান সম্প্রাদায়ের প্রধান ধর্মীয় দুই উৎসবের একটি ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে উপভোগ করেছেন বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ যুক্তরাজ্যের জনগণ। কিন্তু এমন খুশির দিনেও নিরানন্দ দিন কাটছে যুক্তরাজ্যের রেস্টুরেন্ট ওয়ার্কারদের। কারণ নামাজ শেষেই যেতে হবে কাজে। তাই কোনোমতে নামাজ শেষ করে বাসায় এসেই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে কাজে যাওয়ার। এ নিয়ে মন খারাপ অনেক কর্মীর।
জানা গেছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও টেকওয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে বাংলাদেশের মালিকানাধীন ৯৫ শতাংশ রেস্টুরেন্ট প্রতি বছর খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের দিনে বন্ধ থাকে। কিন্তু একই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-শ্রমিকদের ৯৮ শতাংশই মুসলমান। ঈদের দিন রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় খোলা রাখা হয়। ফলে রেস্টুরেন্ট শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ঈদের দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে ঈদের দিন 'বিশ্ব বাবা দিবস' হওয়ায় আগে থেকে যারা ঈদের ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন তাদের ছুটিও বাতিল হয়ে গেছে। তাই ঈদের দিনও কাজে যেতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে তাহমিদ আহমদ নামের এক রেস্টুরেন্ট ওয়ার্কার বলেন, 'ঈদের দিনও আমাদের কাজে যেতে হচ্ছে। আমি আগে থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আজ বিশ্ব বাবা দিবস হওয়ায় মালিক ছুটি বাতিল করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে কাজে যাচ্ছি'।
জাহেদ আহমদ নামের একজন বলেন, ‘বছরে দুটি ঈদ। এই দুই দিন অন্তত রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা উচিত। যেহেতু যুক্তরাজ্যে বেশিরভাগ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের মালিক মুসলিম তাই তাদের কাছে দাবি বছরের দুই ঈদে অন্তত রেস্টুরেন্ট যেনো বন্ধ রাখেন। এতে মনে হয় না ব্যবসায় তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
নাবিল আহমদ নামের একজন বলেন, 'ঈদের দিনেও ছুটি পাইনি। ইচ্ছে ছিল বউকে নিয়ে ঘুরবো। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আরকি। আজকেও কাজে যেতে হচ্ছে। তাই নামাজ পড়ে এসেই কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিক সংগঠনের নেতা ফরহাদ হোসেন টিপু বলেন, ব্রিটেনে ঈদে সরকারি ছুটি নেই। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চলছে। সেই দাবি বাস্তবায়ন হলে রেস্টুরেন্ট মালিকরাও ওই দিন শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হবেন।