অভিবাসীদের মারধর-ভুমধ্যসাগরে ফেলে দিত গ্রিক কোস্টগার্ড, ৪৩ অভিবাসীর মৃত্যু

বিগত তিন বছরে ভূমধ্যসাগরে গ্রীক কোস্টগার্ডের কারণে ৪০ জনেরও বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিহতদের মধ্যে নয়জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণসহ ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির ‘ডেড ক্যাম: কিলিং ইন দ্য মেড?’ নামক তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবিসি ১৫টি ভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করেছে যা ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মে মাসের মধ্যে ঘটেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। বিবিসির তদন্ত অনুসারে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনায় মোট ৪৩ জন অভিবাসী মারা গেছে। বিবিসির তদন্তে সহায়তা করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম, এনজিও সংস্থা এবং তুর্কি উপকূলরক্ষী।

নিহত ৪৩ জনের মধ্যে নয়জন অভিবাসীকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ সাগরে ফেলে দেয়া হয়। এছাড়া এই নয়জনসহ অন্য অভিবাসীদের গ্রিক আঞ্চলিক পানিসীমা থেকে জোর করে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল বা গ্রিক দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

বিবিসি জানায়, গ্রীক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি এবং অপরাধ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বিভিন্ন ঘটনায় অভিবাসীরা দাবি করেন যে গ্রিসের উপকূলে বা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে গ্রিক কোস্টগার্ডরা, এমনকি তাদের নির্মমভাবে মারধোর করেছে গ্রিসের উপকূলরক্ষীরা।

এছাড়া গুলি করা বা মারধোরের পাশাপাশি অভিবাসীদের পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী অভিবাসীরা।

বিবিসি জানায়, তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। গ্রীক দ্বীপ রোডসের কাছে ৮৫ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর নৌকাটি ডুবতে শুরু করলেও সাহায্যের হাত বাড়ায়নি গ্রিক কোস্টগার্ডরা। অভিবাসীদের ওই অবস্থায়ই ফেলে রেখে চলে যায় গ্রিক কোস্টগার্ডরা।

গ্রিসের আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীরা বিভিন্ন দ্বীপের কেন্দ্রে তাদের আবেদন নথিভুক্ত করতে পারেন। তবে অভিবাসীরা বিবিসিকে বলেন, ইউনিফর্ম পরিহিত নয়, মাস্ক পরা লোকজন তাদেরকে থামিয়ে দেয় এবং তারা দৃশ্যত গোপনে কাজ করছিল।

এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রীক সরকার এবং উপকূলরক্ষীরা। একজন সরকারী মুখপাত্র বিবিসির অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি জানালেও প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।