উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিভারী বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। বন্যায় তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট । ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় মানুষ ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এতে জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। এই দুই উপজেলার প্রায় শতভাগ মানুষ এখন পানি বন্দি।
বন্যা দুর্গতদের খোঁজখবর নিতে ও উদ্ধার ততপরতা দেখতে সরেজমিনে এই দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম ঘুরে দেখছেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহিবর রহমান মানিক।
গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার তিনি বৃষ্টিতে ভেজে নৌকায় নৌকায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দুই উপজেলা থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পানি বন্দি মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার সকাল থেকে মুহিবুর রহমান মানিক দোয়ারা বাজার উপজেলার সদর, সুরমা ও দোহালিয়া ইউনিয়ন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোয়ারা বাজার উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু, এএসপি ছাতক সার্কেল, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দোয়ারাবাজার থানা প্রমুখ।
এছাড়াও তিনি ছাতক উপজেলা থেকে দোয়ারাবাজার যাওয়ার পথে সুরমা নদীর দুই পাড়ের বন্যায় পানি বন্দি মানুষের খবর নেন। পাশাপাশি যেসব এলাকায় দ্রুত পানি বাড়ছে এবং এখনও মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি বন্যা কবলিত ছাতক উপজলেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাতক উপজেলার চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কিরণ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মুহিবুর রহমান মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা ছাতক ও দোয়ারা বাজার এই দুই এলাকার শতভাগ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যায় বাড়িঘর ডুবে গেছে, সড়ক তলিয়ে গেছে ফলে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক এলাকায়। আমরা বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাচ্ছি। ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি। আমার এলাকার মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দের জায়গায় এখন বন্যার শঙ্কা বিরাজ করছে।