বলিউড তারকা আমির খানের ছেলে জুনায়েদ খানের প্রথম চলচ্চিত্র মহারাজ নেটফ্লিক্সে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের বিষয়ে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের গুজরাট হাইকোর্ট। ফিল্মটির মুক্তি দিলে এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে বলে অভিযোগ করেছেন পুষ্টিমার্গ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তাই ছবিটি দেখে তারপর রায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্ট।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি সঙ্গীতা ভিষেনের আদালত সিনেমাটির মুক্তির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বৃদ্ধি করেছে এবং আরও শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেছে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক যশরাজ ফিল্মস (ওয়াইআরএফ) আদালতকে ছবিটি দেখার জন্য লিঙ্ক এবং পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাবের পরই আদালত এ রায় দেয়। ছবিটি দেখার মাধ্যমে আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যে এটি প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আপত্তিকর কি না।
স্ট্রিমিং জায়ান্টের শেয়ার করা সংক্ষিপ্তসার অনুসারে, ‘সালটি ১৮৬২, এমন একটি সময়, যখন ভারতে মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বয়স এক বছর এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ স্বাধীনতার আগুনে ঘি ঢালছে। সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একজন ব্যক্তি একটি যুগান্তকারী আইনি লড়াইয়ে সাহসী অবস্থান নেন। এটি একটি সত্য গল্প, যা এখন মহারাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ১৬০ বছরের বেশি সময় পরে।
সাংবাদিক ও সমাজ সংস্কারক কারসান্দাস মুলজি ছিলেন নারী অধিকার ও সমাজ সংস্কারের অগ্রণী প্রবক্তা। মুম্বাইয়ের এলফিনস্টোন কলেজের ছাত্র এবং পণ্ডিত নেতা দাদাভাই নওরোজির শিষ্য, তিনি বিধবা পুনর্বিবাহ সম্পর্কে লিখেছিলেন, নিপীড়িতদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সমাজে সংস্কারের বীজ বপন করেছিলেন।
‘মহারাজ’ ছবিটি ১৮৬২ সালের মহারাজ মানহানি মামলার সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি, যা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইগুলোর অন্যতম বলে ধরা হয়। সিনেমায় জুনায়েদকে সাংবাদিক ও সমাজ সংস্কারক কারসান্দাস মুলজির চরিত্রে দেখা যাবে। আর জয়দীপকে যদুনাথজি ব্রিজরতনজি মহারাজের চরিত্রে, যিনি ছিলেন বল্লভাচার্য সেক্টরের অন্যতম কর্তা।
মহারাজ সিনেমার লক্ষ্য কারসান্দাস মুলজির সাহসিকতাকে পুনরুত্থিত করা এবং তার গল্পটি আধুনিক সময়ের দর্শকদের মাঝে তুলে ধরা।