শীর্ষ গোলদাতার নাম ‘আত্মঘাতী’

ইউরো ২০২৪ আসরে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ১৮টি ম্যাচ হয়ে গেছে। এই ১৮ ম্যাচে মোট গোল হয়েছে ৪৭টি। এবারের ইউরোর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাটা যদি এখন দেখা হয়, সেখানে দুই গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন জামাল মুসিয়ালা। তাহলে এত গোল হলো কীভাবে!

ভাবতে থাকুন। হয়তো বলতে পারেন অনেকে একটি করে গোল করেছেন। সেটিও ঠিক আছে। তবে ভিন্নভাবেও তো গোল পাওয়া সম্ভব। প্রতিপক্ষ দলের কেউ নিজের জালে বল পাঠালেও তো নিজ দলের গোল হয়! অর্থাৎ আত্মঘাতী গোল।

এবারের ইউরোয় এখন পর্যন্ত ৫টি আত্মঘাতী গোল হয়ে গেছে। তাই মজা করে বলাই যায়, ইউরো ২০২৪-এ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আত্মঘাতী গোল'।

কোনো খেলোয়াড় আত্মঘাতী গোল দিলে কঠিনতম শাস্তি কি পেতে পারেন। এমনিতে আত্মঘাতী গোলদাতাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। তবে আত্মঘাতী গোল দিয়ে কঠিনতম শাস্তিটি পেতে হয়েছিল কলম্বিয়ার এস্কোবারকে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-কলম্বিয়া ম্যাচে তার আত্মঘাতী গোল বিখ্যাত হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদের আক্রমণ রুখতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন কলম্বিয়ার অধিনায়ক আন্দ্রে এস্কোবার। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় কলম্বিয়া।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে এস্কোবারের সেই আত্মঘাতী গোল। প্রয়াত আন্দ্রেস এস্কোবার (ডানে)।

ঘটনার ১০ দিন পর কলম্বিয়ার মেডেলিন শহরে একটি বারে মদ্যপান করছিলেন এস্কোবার। সেখানে আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েকজন আততায়ী। প্রকাশ্যে ৬টি গুলি করা হয় এস্কোবারকে! সবার সামনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এস্কোবার। খুনিরা প্রতিবার গুলি করার সময় ‘গোল’ ‘গোল’ স্লোগান দিচ্ছিল। এস্কোবার হয়তো এবার উইরোর আত্মঘাতী গোলগুলো দেখছেন ওপর থেকে আর কিছু ভাবছেন বা হাসছেন।

কোনো ম্যাচে বা টুর্নামেন্টে আত্মঘাতী গোল হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়। ইউরোর আগের আসরেই (২০২০) আত্মঘাতী গোল হয়েছিল মোট ১১টি; যা ছিল এক ইউরো আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড।

এবারের ইউরোয় এখন পর্যন্ত হওয়া ৪৭টি গোলের ১টিও পেনাল্টিতে হয়নি। ৫টি গোল হয়েছে আত্মঘাতী, বাকি ৪২টি করেছেন খেলোয়াড়রা। ৪০ জন খেলোয়াড় করেছেন ১টি করে গোল। আলবেনিয়ার জাসুলা গোল এবং আত্মঘাতী গোল দুটিই করেছেন।

১৯৭৬ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার অ্যান্তন অন্দ্রোস খুলেছিলেন ইউরো আসরে আত্মঘাতী গোলের খাতা। এরপর আরেকটা আত্মঘাতী গোল দেখতে ইউরো আসরকে অপেক্ষা করতে হয় ২০ বছর। ১৯৯৬ ইউরোয় বুলগেরিয়ার ল্যুবোসøাভ পেনেভ করেন আত্মঘাতী গোল। এরপর ২০০০ আর ২০১২ আসরে একটি করে, আর ২০০৪ আসরে দুটো ছিল আত্মঘাতী গোল। ২০১৬ ইউরোয় আত্মঘাতী গোল হয় তিনটি।

ইউরোর গেল আসর থেকে কেন বেশি আত্মঘাতী গোল হচ্ছে। আসলে এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলা মুশকিল। ইউরোপের দেশগুলোর ফুটবল কৌশলে এসেছে বদল। আগে ইউরোপে পাওয়ার ফুটবলের কথা ভাবলেই মাথায় আসত শুধু জার্মানির নাম। তবে এখন বিষয়টি তা নয়।

বৃহস্পতিবার রাতেই যেমন ইতালিকে পুরো ম্যাচে চাপের মধ্যে ফেলেছিল স্পেন। গতিময় ফুটবল খেলে স্পেন যে শুধু ১-০ তে জিতেছে, সেটিই আজ্জুরিদের ভাগ্য। বাঁদিক থেকে উইলিয়ামসের ক্রসে হেড করেন মোরাতা। জিয়ানলুইজ দোন্নারুমা ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর দূরের পোস্টে ছুটে আসা ডিফেন্ডার কালাফিওরির পায়ে লেগে বল চলে যায় জালে।

ক্রোয়েশিয়ার লুকা সুচিচের শট জাসুলার পায়ে লেগে দিক পাল্টে আলবেনিয়ার জালে জড়ায়।

এর আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আলবেনিয়ার ক্লাউস জাসুলা একই ম্যাচে প্রথমে আত্মঘাতী গোল করে পরে নিজেই সেটি শোধ দেন।

পর্তুগালের বিপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রের রবিন হার্নাক আত্মঘাতী গোল করেন। মেন্ডেসের হেড ঠেকান চেক গোলকিপার, কিন্তু সামনে থাকা রবিনের পায়ে গেলে তা জালে জড়ায়।

ফ্রান্স এবারের ইউরোয় নিজেদের প্রথম ম্যাচটি খেলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ফ্রান্স ১-০ গোলে জেতে। সেই ম্যাচের ফয়সালা হয় অস্ট্রিয়ার ম্যাক্সিমিলিয়ানো ওবেরের আত্মঘাতী গোলে। গোলমুখে ক্রস করেন কিন্তু মাঝপথে হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান ডিফেন্ডার মাক্সিমিলিয়ান ওবার।

রুডিগারের (বায়ে) আত্মঘাতী গোল।

এবারের আসর শুরুর দিনে স্বাগতিক জার্মানির রুডিগার আত্মঘাতী গোলের খাতা খোলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে।

এবারের ইউরোয় আত্মঘাতী গোলগুলো দেখে বোঝা যায়, প্রতিপক্ষের আক্রমণের চাপে ভুল করে বসছেন তারা বা খেলোয়াড়ের নিজের অজান্তেই মাথায় বা গায়ে লেগে বল ঢুকে যাচ্ছে জালে। আবার বল ক্লিয়ার করতে গিয়েও নিজের জালেই পাঠিয়েছেন।