ক্রিকেটে ভারত আর পাকিস্তানের ম্যাচকে এখনও মহারণ বলা হয়। দুই দল মুখোমুখি মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। ঠিক তেমনি একালে বাংলাদেশ আর ভারতের লড়াই মানেও চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই বেঙ্গালুরু কিংবা অ্যাডিলেইড। অথবা নিদহাস ট্রফির ফাইনাল। এসব ম্যাচ ছড়িয়েছিল টানটান উত্তেজনা।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৩ বার। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ১ বার। বাকি সবগুলোতেই ভারতের জয়। তবে এর মধ্যেও তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশ জাগিয়েছিল জয়ের সম্ভাবনা। কিন্তু জয়টা যেন কেউ না কেউ শেষ মুহূর্তে এসে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কখনও ভারতীয় ব্যাটসম্যান বা বোলারদের কল্যাণে। কখনও আবার নিজেদের ভুলে হেরে আসতে হয়েছে।
ঠিক তেমনই একটি ম্যাচ ছিল ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে। বেঙ্গালুরুতে সেদিন বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল প্রায় জয়ের কাছাকাছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটে গুবলেট পাকিয়ে ফেলে তারা। ম্যাচটা হেরে যেতে হয় ১ রানে। অথচ এই ম্যাচটা জিতলে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজারা মূল পর্বে সেদিনই একটি জয় পেয়ে যেতে পারতেন।
সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ এসেছিল গত বিশ্বকাপে অ্যাডিলেইড ম্যাচেও। প্রকৃতিও বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছিল। আগে ব্যাট করে ভারত ১৮৪ করে। কিন্তু বৃষ্টি নামায় কাটা যায় ৪ ওভার। লক্ষ্য কমে নেমে দাঁড়ায় ১৫১ রানে। শেষ ওভার পর্যন্ত সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নুরুল হাসান সোহানরা সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। ডিএল পদ্ধতিতে হেরে যায় ৫ রানে। সেই ম্যাচে আবার ৫ রানের পেনাল্টি নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। তবে সেসব ধুঁপে টিকেনি।
বিশ্বকাপ ছাড়াও অন্য আরেকটি টুর্নামেন্টে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা শ্রীলঙ্কায় নিদহাস ট্রফির ফাইনালে। সেদিনও জয়ের দারুণ সুযোগ ছিল সাকিব আল হাসানদের। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। যেটা ছোঁয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু রুবেল হোসেন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দিয়েছিলেন। দীনেশ কার্তিক ১৯তম ওভারে নেন ২২ রান। আর সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে নিশ্চিত করেন জয়। কার্তিক ৮ বলে ২৯ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন।
এই তিন ম্যাচেই জেতার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তারা। তাই আজ রাত সাড়ে ৮টায় অ্যান্টিগায় আরেকটি লড়াইয়ের আগে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি বদলাবে গল্প? নাকি আরেকটি হৃদয় ভাঙার উপাখ্যান!