ছন্দময় রোনালদো পর্তুগাল শেষ ষোলোয়

মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন, সামনে শুধুই গোলরক্ষক, নিশ্চিত সুযোগ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে, অথচ নিজে গোল না করে বল বাড়িয়ে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেজের দিকে। আর ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে ৫৫ মিনিটে পর্তুগালের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক। ইউরোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করলেন রোনালদো। এত দিন রেকর্ডটি এককভাবে ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক উইঙ্গার কারেল পোবোর্স্কির।

এর আগে প্রথমার্ধেই আরও দুবার তুরস্কের জালে বল পাঠায় পর্তুগাল। ৩-০ গোলের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রোনালদোর পর্তুগাল। ২১ মিনিটে বার্নার্দো সিলভা এবং ২৮ মিনিটে আত্মঘাতী দ্বিতীয় গোলটি হয় তুরস্কের সামেত আকায়দিনের ভুলে। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তুরস্ক। সমান ১ পয়েন্ট করে নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র তিনে ও জর্জিয়া চারে আছে।

প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই তিনটি, এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোলের পরিষ্কার সুযোগ হাতছাড়া করলেন আন্তোইন গ্রিজমান। ভাঙা নাক নিয়ে বেঞ্চে বসে থেকেই কিলিয়ান এমবাপ্পে দেখলেন সতীর্থের গোল মিস করা। দুর্ভাগ্য নেদারল্যান্ডসেরও। জাভি সিমন্স বল ফ্রান্সের জালে পাঠালেও সেটি বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। শুক্রবার রাতে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বিগ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস মাঠ ছেড়েছে তাই গোলশূন্য ড্র নিয়েই। তাতে এ দুই দলেরই শেষ ষোলোতে যাওয়ার অপেক্ষার পালা আরও বেড়ে গেল।

লাইপজিগ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের একাদশে ছিলেন না ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার কেভিন দানসোর সঙ্গে সংঘর্ষে নাক ভেঙ্গে ফেলেন এমবাপ্পে। তবে ফ্রান্স দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, এই ম্যাচে মাস্ক পরে খেলতে পারেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড বেঞ্চে বসেই কাটিয়েছেন পুরো ম্যাচ। মাঠে নামা আর হয়নি।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গ্রিজমানের বুলেট গতির শটে এক হাত ছুঁইয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করেন গোলকিপার বার্ট ভেরব্রুখেন। ১৪ মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ পেয়েও নষ্ট করেন গ্রিজমান। প্রথমবার সামনে ফাঁকা জাল পেয়েও বল ঠেলে দেওয়ার সহজ কাজটুকু করতে পারেননি। এরপর সতীর্থদের পা ঘুরে বল পেয়ে শট নিলেও সেটি হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে মেমফিস ডিপের শট মাইগনান ঠেকানোর পর ফিরতি বল পেয়ে জোরালো শটে তা জালে জড়ান জাভি সিমন্স। উল্লাসে ফেটে পড়ে ডাচ শিবির, সঙ্গে কমলা রঙের গ্যালারি। কিন্তু তাদের উদযাপন থেমে যায় লাইনসম্যান পতাকা উঁচিয়ে ধরায়। এ সময় লাইনসম্যানের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায় রেফারিকে। বল জালে জড়ানোর সময় গোলকিপারের ঠিক পাশে দাঁড়ানো ছিলেন ডামফ্রিস। তবে ভিএআর জানায়, গোল হয়নি। সিমন্সের করা বাতিল গোলটি জন্ম দেয় বিতর্কের। রেফারির অমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। ডাচ এই কোচের দাবি, ভুল করেছেন রেফারি।

একটি করে জয় ও ড্রয়ে সমান ৪ পয়েন্ট ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অস্ট্রিয়া। পোল্যান্ড দুই ম্যাচ খেলে দুটিই হেরেছে। গ্রুপের শেষ রাউন্ডে আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্স খেলবে পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর নেদারল্যান্ডস খেলবে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে।