সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই, নিঃস্ব বহু পরিবার

সিরাজগঞ্জে টানা ৫ দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই জেলার যমুনা নদী তীরবর্তী অভ্যন্তরীণ নিচু চরাঞ্চলের ফসলি জমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। গত পাঁচ দিন নিচু চরাঞ্চলের তিল ও বাদামের জমি প্লাবিত হয়ে পড়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শাহজাদপুর কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, সোনাতনী ইউনিয়নের ৪/৫টি গ্রামের ৭০/৮০ বিঘা জমির তিল ও বাদাম ফসল ডুবে গেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সব নদীর পানিও বেড়ে চলেছে।

পাউবোর তথ্য মতে, সিরাজগঞ্জে আরও তিনদিন পানি বাড়বে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাড় মহোনপুর, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, পাকুরতলা, গুচ্ছগ্রাম ও কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল, শরিফমোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ সব গ্রামে আরও ২০টি বাড়িঘর ও ৫০ বিঘা জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত মানুষ নিরাপদে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। গত ২ বছর ধরে এ এলাকায় ভাঙন অব্যহত থানায় শত শত বাড়িঘর, শত শত বিঘা ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলের ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে চলছে।

এ বিষয়ে জালালপুর গ্রামের আলহাজ আলী ও আব্দুস সালাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ এলাকার অন্তত ৭টি গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের আব্দুল মালেক ও চতুর আলী বলেন, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই এ এলাকায় বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে আমরা নিঃস্ব থেকে আরও নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এখন চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলি। বছর যে ভাবে বন্যার পানি বাড়ছে, তা অব্যহত থাকলে চরের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফসলের ক্ষতি হলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সারা বছর খাব কি।

তিনি আরও বলেন, এ বছর চরের ১ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করছি। পানি বৃদ্ধির ফলে সে তিল ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। পানি এ ভাবে বাড়তে থাকলে ৪-৫ দিনের মধ্যে তা তলিয়ে যাবে। তখন পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

শাহজাদপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক আলমাস হোসেন ও লিটন মিয়া বলেন, বন্যার পানি দেখলেই ভয় করে। চরের নিচু জমিতে পানি উঠতে শুরু করছে। দুই বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না জানি না। এ ছাড়া ভাঙনে তো আমরা শেষ হয়ে গেলাম।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সোনাতনী ইউনিয়নের ভিএস রবিউল ইসলা জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও বড় চামতারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ৭০ থেকে ৮০ বিঘা জমির তিল ও বাদাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে অনেকের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। অনেকে আবার আধাপাকা ফসল টেকে ঘওে তুলেছেন। এ ছাড়া তিনি অন্য ইউনিয়নগুলির খবর বলতে পারেনি।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা: ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। অপরদিকে কাজীপুর মেঘাই পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮২ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার)।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় জেলার জেলার ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলের ফসলি জমি প্লবিত হতে শুরু করায় কৃষকরা বন্যা আতংকে রয়েছেন। উপজেলা গুলি হলো কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আরও তিন দিন যমুনা নদীর পানি বাড়বে। এতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ছোট থেকে মাঝারি বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।