আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি প্রদান, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি করে আসছে তারা। এবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ক্লাস বর্জন করে ফের কর্মবিরতি পালন করলেন চবি শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টাব্যাপী চলে কর্মবিরতি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে ছিল অচলাবস্থা। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা চবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনসহ মৌন মিছিলের আয়োজন করে।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে চবি শিক্ষক সমিতি দাবি করে, শিক্ষকরা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সার্বজনীন পেনশন তাদের ওপর বৈষম্যের আঘাত। তারা এই বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ. বি. এম. আবু নোমান বলেন, আমরা ‘প্রত্যয় স্কিমে’ নয় বরং স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের মধ্যেই থাকতে চাই। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। নতুন নিয়মে শিক্ষকদের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক যেতে রাজি নয়। এ সময় চবি শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলা উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত মোট তিনদিন চলবে এই অর্ধদিবস কর্মবিরতি। ৩০ জুন চলবে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি। পরীক্ষাসমূহ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে
অপরদিকে আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে চবি শিক্ষক সমিতি। সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার এবং পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখা, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন কার্যকর করা না হলে তারা এই সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ১৩ মার্চ সরকার সার্বজনীন পেনশনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিতে যোগ দেবেন তাদের জন্য সার্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘প্রত্যয়’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সেটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে চবি শিক্ষক সমিতি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে প্রায় প্রতিটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে গত ২৬ মে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আজ অর্ধদিবস কর্মবিরতিতে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।