৭ দিনে ৭ পানীয়তে কমান ওজন

ওজন কমানোর পাশাপাশি দেহে তৈরি হওয়া টক্সিন উপাদান দূর করতে বর্তমানে জনপ্রিয় পানীয় হয়ে উঠছে ডিটক্স ওয়াটার। এই ডিটক্স ওয়াটার দেহের পানির ঘাটতি পূরণে যেমন সক্ষম, তেমনি টক্সিন দূর করে ওজন কমাতেও পারদর্শী।

এছাড়া প্রাকৃতিক গুণাগুণ সম্পন্ন হওয়ায় এর বেশকিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

ডিটক্স ওয়াটার কি?

ডিটক্স ওয়াটার হল এক ধরনের ইনফিউজড ওয়াটার, যেটাতে ফল, সবজি ও পানি মিশিয়ে তৈরি হয়। এই ধরনের পানীয়কে হার্বাল ড্রিংকস বা ডিটক্স ওয়াটার বলে।

তাজা ফল, সবজি, ভেষজ উপাদান কেটে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখার পর ডিটক্স ওয়াটার তৈরি হয়। ডিটক্স ওয়াটার বানানোর জন্য ফল বা সবজি রস না করে বরং দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা হয়।

এই ধরনের পানীয় ওজন কমাতে সহায়ক। পানিতে বিভিন্ন ভেষজ যোগ করার পরে, এর পটাসিয়ামের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, যা শরীর থেকে সোডিয়াম অপসারণ করতে সহায়তা করে।

যেভাবে সাত দিনে সাত ডিটক্স ওয়াটারে কমাবেন ওজন

শরীরে জমা ‘টক্সিন’ দূর করতে হলে নিয়মিত ডিটক্স ওয়াটার পান করা উচিৎ। এছাড়া বাড়তি মেদ ঝড়াতে চাইলে বিপাকহার বাড়িয়ে তোলা প্রয়োজন। সেই কাজটি করতেও সাহায্য করে এই ডিটক্স পানীয়।

অনেকে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা রকমের ডিটক্স ওয়াটার পান করেন। শরীরচর্চা, ডায়েটের পাশাপাশি কোন কোন ধরনের ডিটক্স পানীয় খাবেন, তা এখানে দেওয়া হল,

১. জিরা পানি

একটি প্যানে ৪ কাপ পানি এবং ২ চা চামচ আস্ত জিড়া ভাল করে ফুটিয়ে নিন। এরপর একটু ঠান্ডা করে ছেঁকে নিয়ে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিন। চাইলে সামান্য মধুও দিতে পারেন স্বাদ বাড়াতে। নিয়ম করে খেলে পেটফাঁপা, গ্যাস, হজমের সমস্যা কমবে। বিপাকহার বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে এই পানীয়।

২. জোয়ান পানি

এই একই পদ্ধতিতে খেতে পারেন জোয়ানের পানি। গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যা নিরাময় করে এই পানীয়। বিপাকহার বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করে এটি। একটি প্যানে ৪ কাপ পানি এবং ২ চা চামচ জোয়ান দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। সকালে না হলে রাতে খাবার খাওয়ার পর এই পানীয় খেতে পারেন।

৩. আমলকি পানি বা আমলকির রস

ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকির রস। হজমশক্তি উন্নত করা থেকে বিপাকহার বাড়িয়ে তোলা— সবই সম্ভব আমলকির গুণে। আমলকি ছোট ছোট করে কেটে নিন বা ব্লেন্ডারে মিহি করে নিন। তার সঙ্গে অল্প পানি, গোলমরিচের গুঁড়া এবং অল্প লবণ মিশিয়ে নিন। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এই পানীয়।

৪. শসার ডিটক্স ওয়াটার

শসার ডিটক্স ওয়াটারে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি পাওয়া যায়। এটি প্রস্তুত করতে, এক গ্লাস পানিতে কিছু শসার টুকরো রাখুন, এবার লেবুর রস, বিট লবণ এবং কিছু পুদিনা পাতা যোগ করুন, একটি চামচ দিয়ে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তারপর পান করুন।

৫) পুদিনা, ধনেপাতার রস

গ্যাস, অম্বল, পেটফাঁপা কিংবা হজম সংক্রান্ত সমস্যা হলে এই পানীয় দারুণ কাজের। পরিমাণমত পানিতে পুদিনা, ধনেপাতা মিশিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে সামান্য মধু এবং লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে পুদিনা এবং ধনেপাতা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে পানিতে মেশাতে পারেন।

৬) মেথি ভেজানো পানি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই মেথি ভেজানো পানি খান। বাড়তি মেদ ঝরাতে এবং শরীরের জমা ‘টক্সিন’ দূর করতেও এই পানীয় দারুণ কাজ করে। ২ কাপ পানিতে ১ চা চামচ মেথি দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উঠে খালি পেটে খেয়ে নিন।

৭) দারুচিনি ভেজানো পানি

ডায়েটিশিয়ানরাও ডিটক্স ওয়াটারে এক টুকরো দারুচিনি যোগ করার পরামর্শ দেন। দারুচিনি ও আদার ডিটক্স ওয়াটার শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে, প্রদাহ দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও দারুচিনি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে।