স্বাধীনতার আগেও সেরা করদাতা হয়েছিলেন কাউছ মিয়া

প্রতিবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যখন সর্বোচ্চ করদাতার নাম প্রকাশ করে তখন সব সেলিব্রিটি ও বড় ব্যবসায়ীকে পেছনে ফেলে সেরা করদাতা নির্বাচিত হন কাউছ মিয়া। ১৫ বার দেশের সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন এই ব্যবসায়ী। স্বাধীনতার আগেও একবার সেরা করদাতা হয়েছিলেন তিনি।

মায়ের দেওয়া আড়াই হাজার টাকার পুঁজিতে ১৯৫০ সালে ব্যবসা শুরু করে কাউছ মিয়া বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন, তাঁর কত সম্পদ আছে তা অনেকের কল্পনারও বাইরে। ২০২১ সালে একটি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তাঁর বিভিন্ন ব্যবসা আর জায়গাজমি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা।

ব্যক্তিগত জীবনে কউছ মিয়া ছিলেন রহস্যঘেরা। হাজার কোটির টাকার ব্যবসার মালিক হলেও কাউছ মিয়া ছিলেন অন্যদের থেকে আলাদা। ঢাকার বড় ব্যবসায়ীদের মতো গুলশান-বনানী কিংবা মতিঝিলে বিলাসবহুল কার্যালয় ছিল না তাঁর। পুরান ঢাকার আগা নওয়াব দেউড়ি রোডের হাকিমপুরী জর্দার কারখানার একটি কক্ষই তাঁর ‘চেম্বার’।

ঢাকা জুড়ে ৩০টির বেশি বাড়ি রয়েছে কাউছ মিয়ার যার বেশিরভাগই ফাঁকা পড়ে আছে। ছেলে-মেয়ে আত্মীয়স্বজনদের জন্য এসব বাড়ি কিনে রেখেছেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, যখন যে বাড়িটা পছন্দ হইছে, সেটাই কিনে ফেলেছি। এখন হয়তো কেউ থাকছে না। তবে আমি জানি এমন সময় আসবে, আমার পরিবারের সদস্যরা কেউ কেউ থাকার জায়গা ভাগেও পাবে না।

কাউছ মিয়া ১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট চাঁদপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষগণ তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অধিবাসী ছিলেন। ১৯৪৫ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামায় আর পড়াশোনা এগোয়নি। কিশোর বয়সেই চাঁদপুর শহরে ব্যবসায়ী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। 

বাবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি মায়ের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে চাঁদপুরের পুরান বাজারে মুদিদোকান দেন। এরপর ধীরে ধীরে ১৮টি ব্র্যান্ডের সিগারেট, বিস্কুট ও সাবানের এজেন্ট হন কাউছ মিয়া। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি চাঁদপুরেই ব্যবসা করতেন।

১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন কাউছ মিয়া; শুরু করেন তামাকের ব্যবসা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। যদিও তাঁর মূল ব্যবসা ছিল তামাক বেচাকেনা। হাকিমপুরী জর্দার মালিক হিসেবে সারা দেশে পরিচিত তিনি।