অগ্রিম কর বাতিলের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩, ১০:৪৭ পিএম

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বিজনেস কমিউনিটি বিশেষ করে এফবিসিসিআইসহ সংগঠনগুলো অগ্রিম করের বিরোধিতা করে আসছে। এআইটি (অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) যে পরিস্থিতিতে আরোপ করা হয়েছিল এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখন এটি রাখার দরকার নাই বলে আমি মনে করি।

মঙ্গলবার দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট ম্যানেজম্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের বাজেট আলোচনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

মন্ত্রী বলেন, এআইটি বাতিল প্রয়োজন এ কারণে যে আমাদের এনবিআরের সক্ষমতা বেড়েছে, লোকবল বেড়েছে, যন্ত্রপাতি বেড়েছে, আমাদের কম্পিউটার অনেক বেড়েছে- সুতরাং আগাম কেটে নিয়ে পরে আবার ফেরত দেওয়া যায় না। অনেকে এর জন্য ঘোরাফেরা করে, এরকম হওয়া ঠিক না।

এম এ মান্নান বলেন, বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মন্তব্য অনেক। আমরা অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপে আছি। কভিডের পর আমরা আরও বেশি চাপে পড়েছি। তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বাজেটে ভীতির কোনো কিছু উল্লেখ নেই। এতসব চাপের মধ্যে সরকারের কিছু একটা আশা আছে।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার পক্ষে। এটি আখেরে মঙ্গলজনক নয়। এখানে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী কায়েমী স্বার্থ নিয়ে আসে। এ জন্য এটিকে তুলে নিতে সরকারও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিম রায়হান বলেন, ট্যাক্স এজেন্ট নতুন করে কোনো সংকট তৈরি করবে কিনা এটি নিয়ে সংশয় আছে। পরিকল্পনা নিয়ে যে পথে হাঁটা হচ্ছে, বাজেট সেদিকে হাঁটছে কিনা সেটিও দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। একটি হলো মুদ্রানীতি। এ বছর ৭০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে। এটির প্রভাব পড়েনি কারণ সরকার এ টাকা আবার তুলে ফেলেছে খোলাবাজারে ডলার বিক্রি করে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রাজস্ব নীতি। রাজস্ব তথ্য-উপাত্ত ঠিকভাবে হিসেব করা জরুরী। আর তৃতীয় বিষয় হলো- অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা। এ তিনটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য রঞ্জন কুমার ভৌমিক তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোনো ফেভার চাই না। এনবিআর থেকে মাঝেমধ্যে বলা হয় দুই একটা খাত দেখিয়ে দেন আমরা কিছু কর আদায় করি। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুশফিকুর রহমান তার প্রবন্ধে বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেই। ঘাটতি বাজেট মূল্যস্ফীতিতে আরও উসকে দেবে। ২ হাজার টাকা কর দেওয়ার বিষয়টি সাংঘর্ষিক। এ বাজেটে অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত