বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। কিছু দিন পরপরই তাকে হাসপাতালে আসতে হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, তাকে বাইরে উন্নত কেন্দ্রে নেওয়া উচিত। কিন্তু সরকার তাকে যেতে দিচ্ছে না। তারা পরিকল্পিভাবে আদালতকে ব্যবহার করে সেটা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন জোরদার করার।
আজ বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে যৌথসভায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা শেষে তিনি একথা বলেন।
এই আন্দোলনের সাথে জনগণকে নিয়ে করা হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের এই দাবি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করছি। আমরা জনগণের কাছে প্রত্যাশা করব, জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার প্রাণ রক্ষা করা, তাকে মুক্ত বাতাসে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করবে এবং তারা আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের সাথে আপমর জনসাধারণ একাত্ম হবেন। আমাদের বিশ্বাস আমাদের সাথে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন আপনারা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছেন তারা অনেকে বিবৃতি দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তার মুক্তির কথা বলেছেন।
ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সরকার আটক করে রেখেছে। এটা আইন বিরোধী, এটা সংবিধান বিরোধী। একজন মানুষের যদি পাঁচ বছরের সাজা হয় সে সাথে সাথে জামিন পেয়ে যায়। আমাদের দলের অনেকের ১৩/১৪ বছর সাজা হয়েছে, তাদের জামিন হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সাজা হওয়ার পর তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এটা আর প্রাপ্য, এটা সাংবিধানিক অধিকার। এখনো তার মামলা সুপ্রিম কোর্টে পেইন্ডিং আছে। সুতরাং এই বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ যে সরকার পরিকল্পিতভাবে তাকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। আপনি দেখবেন কারা কারা জামিন পারে, সেখানে আছে বয়স্ক মহিলা, অসুস্থ মানুষ তারা জামিন পাওয়ার অধিকার রাখে। যত বড় মামলাই হোক।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরাফত আলী সপু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবুল হক নান্নু, মনির হোসেন, বেনজীর আহমেদ টিটো, নজরুল ইসলাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।