২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনালের সেই দৃশ্যটা আজও ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয়েছিল সবগুলো ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা ভারতকে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ২৪ রানে হারানোর পর সেই যন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। এবার ভারতের সামনে সুযোগ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার। গত আসরে এই ইংল্যান্ডের কাছেই একতরফাভাবে হেরে গিয়ে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল বিরাট-সূর্যদের। ওই ম্যাচে ১০ উইকেটের ব্যবধানে ভারতকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন জস বাটলাররা। এই পরিস্থিতিতে রোহিত শর্মা ও তার দল গত হারের প্রতিশোধ যে নিতে চাইবেন, সেটা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার নেই।
ওই ম্যাচের কথা মনে করে জস বাটলার এবারের ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘দারুণ স্মৃতি। ইংল্যান্ডের জার্সিতে আমার জন্য স্মরণীয় একটি ম্যাচ। সূর্যের আউট হওয়াটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আমরাও দারুণ শুরু পেয়েছিলাম। তবে আমরা এবার রোহিতের নেতৃত্বে একটি ভিন্ন ভারত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। ওই ম্যাচে হারার পর থেকেই ভারতের আচরণে এই পরিবর্তন এসেছে।’
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দল এখনো পর্যন্ত রয়েছে অপরাজিত। গ্রুপ পর্যায়ে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে, পাকিস্তানকে ৬ রানে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ উইকেটে পরাস্ত করে। এরপর গ্রুপ পর্যায়ে কানাডার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। অন্যদিকে সুপার এইট পর্বে ভারত আফগানিস্তানকে ৪৭ রানে, বাংলাদেশকে ৫০ রানে এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২৪ রানে হারিয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। এবার ফাইনালে যেতে তাদের সামনে বাধা কেবল ইংল্যান্ড।
ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা জানিয়ে দিয়েছেন, সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ কে, সেটা নিয়ে ভাবছেন না তারা। ভারত নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলবে। ‘আমরা আলাদা কিছু করতে চাচ্ছি না। যে ক্রিকেট খেলছি সেটাই খেলে যাব। কে প্রতিপক্ষ তা দেখার দরকার নেই’ জানিয়ে রোহিত যোগ করেন, ‘সবাইকে বলেছি, খোলা মনে খেলতে। চাপ না নিতে। এই রকম ক্রিকেট খেললেই আমরা সফল হব।’
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে পেস আক্রমণই ছিল ভারতের প্রধান অস্ত্র। নিউ ইয়র্কে সুবিধে পাচ্ছিলেন পেসাররা। কিন্তু সুপার আট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন স্পিনাররা। বিশেষ করে চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপ যাদব। রোহিত বলেছেন, ‘এখানকার পিচে যে কুলদীপ ভালো বল করবে তা জানতাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিচে কুলদীপকে দরকার। আমি নিশ্চিত, পরের ম্যাচগুলোতেও ওর বড় ভূমিকা থাকবে।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড এবারের আসরে দেখেছে ক্রিকেটের ভালো-মন্দ দুটি রূপ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচটিই বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরের ম্যাচে ইংল্যান্ড হেরে বসে ৩৬ রানের ব্যবধানে। এই হারে তাদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। কিন্তু ওমানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পিছিয়ে থাকা রান রেটও পুষিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে প্রকৃতির আশীর্বাদে বৃষ্টির পরও খেলা মাঠে গড়ালে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৪১ রানের জয় সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করে দেয়। সুপার এইট পর্বে ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দেয়। কিন্তু পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ রানে হেরে যায়। এরপর ইংল্যান্ড মরা-বাঁচার ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা পাকা করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এবং ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত মোট ৪ বার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলছে। এরমধ্যে দুটো দলই দুবার করে জয়ী হয়েছে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের দেখায় ভারত ১৮ রানে জয় পেয়েছিল। ২০০৯ আসরে ইংল্যান্ড ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে দিয়েছিল। এরপর ২০১২ সালের বিশ্বকাপে তার বদলা ভারত নিয়েছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯০ রানের জয় তুলে। আর ২০২২ আসরের সেমিফাইনালের ঘটনা তো আগেই বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৩ বারের দেখায় ভারত ১২টি এবং ইংল্যান্ড ১১টি ম্যাচ জিতেছে। আজ রাতে গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে তাই অপেক্ষা করছে দারুণ শক্তিশালী দুই দলের ফাইনালে ওঠার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
এই ম্যাচের জন্য কোনো রিজার্ভ ডে নেই। প্রথম সেমিফাইনাল রাতের ম্যাচ হলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনাল পুরোপুরিই দিনের ম্যাচ। মূলত ভারতে ও এই উপমহাদেশে টেলিভিশন দর্শকদের প্রাইম টাইমে খেলা রাখার জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ম্যাচ রিজার্ভ ডে-তে গড়ালে জয়ী দলকে খেলতে হবে টানা দুই দিন। তাই এক দিনেই ম্যাচের ফল বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। অন্য ম্যাচের মতো তাই ১৯০ মিনিট নয়, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মোট ২৫০ মিনিট বাড়তি সময় রাখা হয়েছে এই ম্যাচের জন্য। বাড়তি সময় দিয়েও ম্যাচ শেষ না করা গেলে সুপার এইটে এগিয়ে থাকার সুবাদে ভারত চলে যাবে ফাইনালে।