নির্মাণের ১১ বছরেও কাজে আসছে না সেতু

ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় খালের ওপর প্রায় এক যুগ আগে নির্মাণ করা একটি সেতু একদিনের জন্যও ব্যবহার করতে পারেননি এলাকাবাসী। এক যুগ ধরে একাই দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। আর সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না গ্রামবাসীর। উপরন্তু তাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতুটি।

স্থানীয় জানান, ২০১৩ সালে নয়নশ্রী ইউনিয়নের শান্তিনগর থেকে নলগোড়া হয়ে যন্ত্রাইল ও শোল্লা যাওয়ার জন্য খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা সেতুটির দুপাশে মাটি ভরাট না করায় একদিনও ব্যবহার করতে পারেনি পথচারীরা। সেতু না থাকায় এবং সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম  ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতেও বেগ পেতে হয় স্থানীয়দের। পাশাপাশি সেতুটি না হওয়ায় কাঁচা সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। সেই সঙ্গে কাঁচা সড়কটি দিয়ে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বিক্রিকৃত মাটি মাহেন্দ্র দিয়ে সরবরাহ করায় রাস্তাটি চলাচলের আরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যোগাযোগের  ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত রয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা ববিতা আক্তার জানান, এ সড়কটি দিয়েই শান্তিনগর প্রাইমারি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। মানুষের বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করলে অনেক মানুষ কটু কথা বলেন। আমরা খুব সমস্যায় আছি।

শান্তিনগরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। প্রতি সপ্তাহে ঢাকা ও নবাবগঞ্জ সদরে যেতে হয় ডাক্তার দেখাতে। সেতুটির কারণে বাসার সামনে গাড়ি আসতে পারে না। খুব কষ্ট হয় বাজার পর্যন্ত হেঁটে যেতে।

স্থানীয় বসিন্দা মিদুল বলেন, আমরা সাধারণত সেতুর নিচ দিয়ে হেঁটে চলাচল করি। কিন্তু বর্ষার সময় আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তখন সেতুর দুপাশ পানিতে ডুবে যায়। সেতুটি কোনো কাজেই আসে না। এটাকে ভেঙে এখানে কালভার্ট করা উচিত। তাহলে আমরা চলাচল করতে পারতাম। রাস্তাটাও সংস্কার হতো।

গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম বলেন, ওই সেতু কাজে তো একদিনও লাগেনি বরং ক্ষতি হয়েছে। সেতু এখন মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডা। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে পুলাপানের আনাগোনা থাকে।

আ. জলিল নামে এক বৃদ্ধ বলেন, এটা তো সেতু করে নাই, পুলাপানের গাঁজা খাওয়ার আড্ডার জায়গা বানায়া দিছে। সন্ধ্যার পর এলেই গাঁজার গন্ধে থাকা যায় না। গাঁজা খাওয়া, তাস খেলায় মগ্ন থাকে পুলাপান। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর জুলুম করে। তাই প্রতিবাদও করি না।

নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরী বলেন, একাধিকবার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি কিন্তু উপজেলা পরিষদ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৯৯৮-এর বন্যার কথা চিন্তা করে ২০১৩ সালে সেতুটি হয়েছিল। যেন বর্ষায় সেখানে গরু-ছাগল আশ্রয় নিতে পারে।

তবে আশপাশের  লোকজন জমি না দেওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের প্রকল্প না। এলজিইডির কোনো ব্রিজ অ্যাপ্রোচ ছাড়া নাই। আপনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও) অফিসে যোগাযোগ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসান আহমেদ বলেন, ব্যাপারটা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তবে যেহেতু ১০ বছরের ওপরে হয়ে গেছে তাই নথি পাওয়াটা দুষ্কর।