বেসরকারি আইসিইউ দালালদের দখলে

চিকিৎসার সর্বশেষ ধাপ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সেবা। অথচ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আইসিইউ আছে ৩১ জেলায়। বাকি ৩৩ জেলায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টিতে এই সেবা চালু করতে পেরেছে সরকার।

অন্যদিকে, বেসরকারি পর্যায়ে আইসিইউ সেবা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব হাসপাতালের আইসিইউতে সেবা মিলছে দালালের মাধ্যমে। আইসিইউ চালানোর জন্য নিজস্ব কোনো চিকিৎসক নেই। সরকারি চিকিৎসকরাই ভরসা। সরকারি আইসিইউর মতোই এখানেও স্থাপিত যন্ত্রপাতি নিম্নমানের।

বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি পর্যায়ে একটা নীতিমালা করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক। তিনি বলেন, সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। কীভাবে আইসিইউ চলবে, কোন জেলায় কী ধরনের আইসিইউ লাগবে, কোন ধরনের আইসিইউর ভাড়া কত সব নির্ধারণ করা আছে। এখন মধ্যমমানের লোকবল ও আইসিইউ সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবার দামই আদায় করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি আইসিইউ সেবা একটা অর্গানোগ্রামের মধ্যে না আনলে এই সেবায় শৃঙ্খলা আসবে না।

বেসরকারি আইসিইউ দালালদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে জানান বিএসএমএমইউ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক। তারা জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে দালালরা রোগী ধরে এনে আইসিইউতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। একটি বেসরকারি আইসিইউতে একজন চিকিৎসক দিনে একবার ভিজিট করে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পান। কিন্তু রোগীর প্রতিদিন বিল হচ্ছে ২০-২৫ হাজার টাকা। সেই বিলের বাকি টাকার ৫০ শতাংশই নিয়ে যাচ্ছে দালালরা।

এ চিকিৎসকরা আরও জানান, বিএসএমএমইউসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বেসরকারি আইসিইউতে ২৪ ঘণ্টায় একবার রাউন্ড দেন। অথচ আইসিইউ সাধারণ ওয়ার্ডের মতো নয় যে ২৪ ঘণ্টায় একবার রাউন্ড দিলেই হয়ে গেল।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে