রাত পার হলেই আগামীকাল ইরানে অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় গত মাসে ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে শেষ মুহূর্তে গতকাল বুধবার ছয় প্রার্থীর মধ্যে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একজন হলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজিজাদেহ হাশেমি এবং আরেকজন রাজধানী তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই রক্ষণশীল, একজন সংস্কারপন্থী। এদের মধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন দুইজন।
আল জাজিরা বলছে, প্রেসিডেন্ট পদে রক্ষণশীল গালিবাফ এবং জলিলি এগিয়ে রয়েছেন। এক নজরে বাকি প্রার্থি সম্পর্কে জানানো হল এখানে।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
ইরানের একজন রক্ষণশীল নেতা হিসেবে ৬২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অতি পরিচিত। ২০২০ সাল থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ইরানের উত্তর–পূর্বের নগরী মাশহাদের কাছে ১৯৬১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন গালিবাফ। রাজধানী তেহরানের মেয়রের দায়িত্ব পালনসহ তিনি সরকারি নানা পদে ছিলেন।
এর আগে ২০০৫, ২০১৩ ও ২০১৭ সালেও গালিবাফ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। তবে শেষবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি রাইসিকে সমর্থন দেন।
রাজনীতিতে আসার আগে গালিবাফ ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁকে রেভল্যুশনারি গার্ডের বিমানবাহিনীর প্রধান করেছিলেন। আর ২০০০ সালে পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আমির-হোসেইন গাজিজাদেহ হাশেমি
৫৩ বছর বয়সী আমির–হোসেইন গাজিজাদেহ হাশেমি চরম রক্ষণশীল একজন নেতা। চিকিৎসক গাজিজাদেহ হাশেমি রাইসি সরকারের একজন কট্টর সমর্থক। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মার্টায়ার্স ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজিজাদেহ হাশেমি সাবেক প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসির অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে গাজিজাদেহ হাশেমি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
সাঈদ জালিলি
আরও একজন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী ৫৮ বছরের সাঈদ জালিলি। তিনি ঘোর পশ্চিমাবিরোধী। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন জালিলি। খামেনি তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিলেন।
জালিলি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি পা হারান।
মাসুদ পেজেশকিয়ান
এবারের প্রার্থীদের মধ্যে পেজেশকিয়ানই সবচেয়ে বয়স্ক এবং একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী। ১৯৫৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া পেজেশকিয়ান একজন হার্ট সার্জন। তিনি বরাবর ইরানের বর্তমান শাসকদের সমালোচনা করে এসেছেন। ইরানের সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
২০২২ সালে তেহরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল সে সময় রাইসি সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পেজেশকিয়ান।
মোস্তফা পুরমোহাম্মদি
৬৪ বছর বয়সী মোস্তফা পুরমোহাম্মদি এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা একমাত্র ধর্মীয় নেতা। রক্ষণশীল ও অভিজ্ঞ এ রাজনীতিক ১৯৫৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর কুমনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
পুরমোহাম্মদি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।
আলিরেজা জাকানি
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ৫৮ বছর বয়সী আলিরেজা জাকানি। তিনিও কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিক। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে তেহরানের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
১৯৬৫ সালের ২ এপ্রিল রাজধানী তেহরানে জন্ম নেওয়া জাকানি ইরাক-ইরান যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি রাইসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে ২০১৩ ও ২০১৭ সালে এ পদে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন তিনি।