ট্রাম্প-বাইডেনের বিতর্ক নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে?

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এ বিতর্কে বৈশ্বিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের ওপর নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টা) মুখোমুখি হবেন তারা। আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আর সেই নির্বাচন ঘিরে আজকের এই অনুষ্ঠান হবে প্রথম ঘটনা যখন দুজন প্রেসিডেন্ট একে অপরের সাথে বিতর্ক করবেন, এবং ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের পর বাইডেন আর ট্রাম্প প্রথমবার একই ঘরে অবস্থান নেবেন।

সিএনএনের আটলান্টা স্টুডিওতে প্রথম বিতর্কটি হবে। বাইডেন-ট্রাম্পের এ বিতর্ক দেখার অপেক্ষায় মার্কিন জনগণ। বিতর্কে চোখ থাকবে বাইরের দেশের দর্শকদেরও।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রবীণ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। দুজনই বিভিন্ন সমাবেশে পরস্পরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। আবার বয়স নিয়ে একে অন্যকে আক্রমণ করছেন বেশি। নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ৮১ বছর বয়সী বাইডেন ও ৭৮ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য প্রত্যক্ষ করবেন মার্কিনরা।

৯০ মিনিটের ওই বিতর্ক ক্যামেরায় ধারণ করা হবে। বিভিন্ন জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত বাইডেন-ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এই বিতর্কে অর্থনীতি থেকে শুরু করে বিদেশের যুদ্ধ, অভিবাসন এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্ক, বিশেষ করে প্রথম বিতর্ক, একটা বড় ধরনের টেলিভিশন ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে এ বিতর্ক নিয়ে দেশের গণমাধ্যম, দুই দলের নির্বাচনী কৌশলবিদ এবং কট্টর সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা থাকলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা সব সময়ই বলে এসেছেন যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্ক আসলে ভোটারদের মন বদলাতে পারে না। 

এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় গবেষণা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ভিনসেন্ট পন্স এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের পিএইচডি শিক্ষার্থী ক্যারোলাইন লা পেনেক-কেলদোচৌরি। তারা ১৯৫২ সাল থেকে ৯টি দেশের ৬১টি নির্বাচনে ভোটাররা কখন প্রার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের ওপর টেলিভিশন বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে গবেষণা করেছেন। নির্বাচনের আগে ও পরে ১ লাখ ৭২ হাজার ভোটারের ওপর করা সব জরিপ তাঁরা বিশ্লেষণ করেছেন, এর ৮০ শতাংশ বিতর্ক দেখেছেন। কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তাদের গবেষণার ফলাফল হচ্ছে, বিতর্ক নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব রাখেনি। এমনকি বয়সে তরুণ এবং যারা নির্বাচন বিষয়ে কম খোঁজখবর রাখেন, তাদের পছন্দ বদলাতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের মধ্যে এক বড়সংখ্যক গবেষক একই ধরনের উপসংহারে পৌঁছেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস স্টিমসন তার ‘টাইডস অফ কনসেন্ট’ গ্রন্থে বলেন, ১৯৬০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে কোনো বিতর্ক কোনো প্রার্থীর ভাগ্য বদলাতে পারেনি। যাকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হয়, এমন কোনো বিতর্ক হয়নি। 

তবে তিনি লিখেছেন, বড়জোর খুব সামান্য কিছু এদিক-সেদিক করেছে। রবার্ট এরিকসন ও ক্রিস্টোফার ওয়েলজিন ‘দ্য টাইম লাইন অব প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশন’ গ্রন্থে ১৯৫২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনের বিশ্লেষণে বলেছেন, ১৯৭৬ সালের নির্বাচন ছাড়া আর কখনোই বিতর্ক প্রভাব ফেলেনি। তার মানে হচ্ছে বিতর্কের আগে যে অবস্থা থাকে, বিতর্কের পরও তা বদলায় না। কোনো গবেষক মনে করেন যে বিতর্ক একেবারেই প্রভাবহীন নয়।