শতভাগ বিদ্যুতায়নের উপজেলা নাঙ্গলকোটে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। প্রতিদিন অন্তত ১৮ ঘণ্টা এলাকাবাসীকে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। গত ৪-৫দিন থেকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের সাথে তীব্র তাপদাহে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে মানুষজনকে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাবাসীকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
এছাড়া ভয়াবহ লোডশেডিং-এ নাঙ্গলকোট পৌরসদরসহ ১৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফাস্টফুড দোকান, করাত কল, ধান, আটাসহ মসলা মিল ব্যবসায়ীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকতে হয়। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটগুলোতে ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হচ্ছে বলে অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ। এছাড়া নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পোল্ট্রি খামারগুলোতে অতিরিক্ত গরমে মুরগির বাচ্চা নষ্ট হওয়ার অভিয়োগ উঠেছে।
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের সাব স্টেশনগুলোতে যান্ত্রিক ক্রটি, বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছ কর্তনসহ ছোট-খাট অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং অন্যদিকে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মে মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত ছিল না। অধিকাংশ গ্রাহকের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে দ্বিগুণ বিল করা হয়েছে বলে অনেক গ্রাহক এ প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করেন।
গ্রাহকরা দলবেঁধে নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ কার্যালয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু তারা অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অনেক গ্রাহক এ প্রতিবেদককে জানান। উল্টো তাদেরকে মিটার পরিদর্শন এবং মিটার পরিবর্তন নিয়ে তাদেরকে আরো ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোটে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর আওতাধীন ১টি পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। নাঙ্গলকোটে বিদ্যুতের মোট চাহিদা রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। যা উঠানামা করে।
ঢালুয়া ইউনিয়নের মগুয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক জামাল উদ্দিন বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির মানুষজন এবং ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান গুণতে হচ্ছ।
উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক শফিকুর রহমান জানান, আমার প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল আসে প্রায় ২ হাজার টাকা। কিন্তু মে মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করা হলে মিটার পরিবর্তনের নামে আমার থেকে আরো ২শ টাকা আদায় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ ডি জি এম কামাল পাশা বলেন, কয়লা সংকটের কারণে কয়েকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ প্লান্ট বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। নাঙ্গলকোটে বিদ্যুতের চাহিদা ৩০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি আগামী ২-১দিনের মধ্যে লোডশেডিং কমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।