সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এবং তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শমসের আলীর বাসায় হামলার ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সিলেটের শাহপরাণ থানায় মামলা দুইটি দায়ের হয়েছে।
এদিকে মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নজরুল ইসলাম বিজয়, ফুজায়েল মল্লিক, তারেক আহমদ ও রাহেল উদ্দিন। তারা সবাই নগরীর টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা।
শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জানান, মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গত শুক্রবার রাতে কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- শেখ নজরুল ইসলাম বিজয় (৩০), সোহেল আহমদ (৩২), মো. রাব্বি (২২), শেখ রুহিত (২০), তারেক আহমদ (৩১), ছামাদ আহমদ (২২), ফুজায়েল মল্লিক (২০), ইয়াকীন আহমদ (২০), নাসির উদ্দিন (২৩), মুছা খান তপু (২১), শাওন আহমদ (২৩), রিয়াজুল ইসলাম, রাহেল উদ্দিন রাবেন (২২), বোরহান (২৫)।
অভিযোগে আজাদ উল্লেখ করেন, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ত্রাস সৃষ্টিকারী ও জবর দখলকারী। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্ম করায় স্থানীয় নিরীহ জনগণ আমার নিকট বিচার চাইলে আমি এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ও আমার বাসায় হামলা করে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, মশাল, হকিস্টিক, রামদা, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাসায় হামলা চালায়। এতে বাসার প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা গুলি বর্ষণ করতে করতে এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে, বাসায় হামলা, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি ও লুটপাটের অভিযোগ করে থানায় আরেকটি মামলা করেছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সদস্য শমসের আলী। তিনি ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করেছেন।