শিশু গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে ভিডিও, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শিশু গৃহকর্মীকে কৌশলে বাড়ির মালিক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশু গৃহকর্মীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বাড়ির চিকিৎসক মালিককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত পেশায় একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক। শনিবার সকালে শিশুর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আটক হওয়া চিকিৎসকের নাম ফরহাদুজ্জামান (৩৮)। সবার কাছে তিনি ডাক্তার ফরহাদ নামেই পরিচিত। তিনি শ্রীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় মসজিদ (মডেল মসজিদ) এলাকার আবুল হাশেম উকিলের ছেলে। তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করে আসছেন।

পুলিশ বলছে, আপাতত অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে অভিযোগ পেয়ে। পরে আরও বিস্তারিত বলা যাবে।

প্রতিবেশীরা জানান ডা. ফরহাদুজ্জামান তার নিজস্ব বাড়ির নিচে চেম্বার খুলে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যথা নিরাময়ে আল আরাফ ফিজিওথেরাপি নামে সেন্টারের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সম্প্রতি তার চেম্বারে রোগীর বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার সেই থেরাপি সেন্টারে বেশ কয়েকজন কর্মী কাজ করেন। নারী পুরুষসহ নানা বয়সের রোগী তার সেন্টারে সেবা নিতে আসেন। ডাক্তার ফরহাদ খুবই ধার্মিক মানুষ হিসাবে এলকায় পরিচিত।

অপরদিকে নির্যাতনের শিকার শিশু (১৪) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা। শিশুর বাবা পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। শ্রীপুর এলাকায় ভাড়ায় থেকে তার বাবা অটোরিকশা চালান আর শিশুটি গৃহকর্মীর কাজ করে। সন্ধ্যার পরেই নির্যাতনের শিকার শিশুকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ওই শিশু গৃহকর্মী হিসেবে দুই মাস আগে ডা. ফরহাদুজ্জামানের বাসায় কাজে যোগ দেয়। কাজের যোগ দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই প্রলোভন দেখিয়ে ফরহাদুজ্জামান ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। এর কয়েকদিন পর ওই শিশুকে তার চেম্বারে নিয়েও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণ দৃশ্য নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়েছে বলে বলা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে শিশুর মা তাকে বাড়ি নিয়ে যান।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান শিশুর মা বাদী হয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি তার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই ধর্ষণ দৃশ্য মোবাইলেও ধারণ করে রাখা হয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এর পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্যাতনে শিকার শিশু আপাতত পুলিশ হেফাজতে আছে।