বেরোবির রেজিস্ট্রার ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরীকে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে নিজেদের আপগ্রেডেশনের বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।

আজ সোমবার (১ জুলাই) ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের রেজিস্ট্রারের কক্ষে কর্মচারীরা অবস্থান নিয়ে তারা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আপগ্রেডেশনের জন্য বাছাই বোর্ড আয়োজনের দাবি জানান।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আপগ্রেডেশনের দাবি করে আসছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা৷ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে উপাচার্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ তারিখে কর্মচারীদের সংশোধিত নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদন করেন।।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাছাই বোর্ডের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া হলেও, তা পাননি সাধারণ কর্মচারীরা। এই প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরীর দপ্তরে অবস্থান নেন তারা। পরে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপগ্রেডশন দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করলে কর্মচারীরা রেজিস্ট্রারের দপ্তর ত্যাগ করেন।

৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে জোরের ওপর, আমারা একই জায়গায় ১০ বা ১২ বছর চাকরি করছি। আমাদের পদোন্নতি নাই কিন্তু কর্মকর্তাদের কারো সময় না হলেও পদোন্নতি পায়। ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও পরিচালকের পদোন্নতি দেওয়া হয় আমাদের নীতিমালা বাস্তবায়ন হয় না।

এ বিষয়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. নূর আলম মিয়া বলেন, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আপগ্রেডেশনের জন্য বাছাই বোর্ড আয়োজনের দাবি নিয়ে আমরা রেজিস্ট্রার স্যারের দপ্তরে অবস্থান নিই। পরে বেশ কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর তারা ১৮ জুলাই পর্যন্ত অগ্রায়নের আবেদন করার জন্য এবং ১৯-২৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় চেয়ে বোর্ড আয়োজনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

একাধিক কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেখানে দুদকের আসামি, জুনিয়র কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের তাড়াহুড়ো করে আপগ্রেডেশন দেওয়া হয় সেখানে আমাদের বেলায় শুধু তালবাহানা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, কর্মচারীরা যে আপগ্রেডেশনের জন্য বাছাই বোর্ড সভা আয়োজনের দাবি নিয়ে এখানে অবস্থান নিয়েছিলেন সে বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি আমরা। এ ক্ষেত্রে আমরা তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অগ্রায়নের জন্য আবেদন করতে বলেছি। ওই আবেদনপত্রসমূহ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বাছাই বোর্ডে সুপারিশ করা হবে।