কেনিয়াতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৩৯

কেনিয়াতে কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে সম্প্রতি সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে। গত এক সপ্তাহে বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা দ্য কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (কেএনসিএইচআর)।

বিক্ষোভকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও নতুন করে বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

কেএনসিএইচআর জানায়, সাম্প্রতিক ১৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে ৩৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৩৬১ জন। এছাড়া বিক্ষোভের সময়কালে নিখোঁজ বা গুমের শিকার হয়েছেন ৩২ জন এবং ৬২৭ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কেএনসিএইচআরের দেওয়া হতাহতের তথ্য সরকার কর্তৃক পূর্বে প্রকাশ করা হতাহতের তথ্যের প্রায় দ্বিগুণ।

এর আগে গত রোববার কেনিয়ার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো জানিয়েছিলেন যে বিক্ষোভে ১৯ জন মারা গিয়েছিল। সে সময় এসব মৃত্যুর তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিকে গত সপ্তাহে রুটো ট্যাক্স বৃদ্ধি সম্বলিত বিলে সই না করার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের হ্যাশট্যাগসহ লিফলেট পোস্ট করা হয়েছে ‘সব জায়গা দখল করো’, ‘রুটোর বিদায় চাই’, ‘বাজেট দুর্নীতিবাজদের বাতিল করো’।

গত মঙ্গলবার প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধিসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয় কেনিয়ার পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি পাসের সঙ্গে সঙ্গেই পার্লামেন্ট চত্বরসহ পুরো নাইরোবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট চত্বরের একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন, বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি শুরু করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ, যিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। সেই নির্বাচনের পর থেকেই কেনিয়ায় দিন দিন রাজনৈতিক বিভক্তি তীব্র হয়ে উঠেছে।