দিনদিন তীব্রতর হচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলন। টানা চতুর্থ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এতে তিনি লেখেন, কোটার একটা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত অবশ্যই দরকার। ২০১৩ সালের আমার বন্ধু মহলের অনেকেই এখনও লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করছে, তারা অনেকগুলো সরকারি চাকরিতে ভাইবা দিচ্ছে। কারো কোনও করুণায় নয়, অপেক্ষায় আছে মেধার ভিত্তিতে একটা চাকরির জন্য। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করে গত এক দশকের কষ্ট লাগবের জন্য।'
'তাদের অনেককেই দেখেছি কেউ তিন বেলা খাবারের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেঁটে টিউশন করতে। অনেককেই দেখেছি এক-দুবেলা খেয়ে লাইব্রেরিতে পড়ে থাকতে। এই চিত্রগুলো আমার প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ।'
নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগ না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ঢাবির এই শিক্ষক বলেন, 'আমি হলফ করে বলছি, আমার সন্তানদের যদি কোথাও কোটার সুযোগ থাকে তা কখনো আমি প্রয়োগ করব না। আর যদি করে থাকি, তাহলে সেদিন হতে ধরে নেব আমার সারাজীবনের শিক্ষা ভুল ছিল।'
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, 'আজকে হয়তো আমাকেও শিক্ষার্থীদের মিছিলে থাকতে হতো যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিত। আমার চোখ বন্ধ করলে আমার বন্ধুদের কথা মনে পড়ে। এখন দরকার কোটা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে সরকার মেধাকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া।'
এই স্ট্যাটাসে শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় ভাসেন এই শিক্ষক। মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম উর্বী লিখেন, 'কোটার পক্ষে যেখানে কোরআন হাদীসের দলিল পর্যন্ত তুলে আনছেন একেকজন। সেখানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে, একটা বাজে সিস্টেমের পরিবর্তন আনার পক্ষে কথা বলায় আপনাকে ধন্যবাদ, স্যার।'
আহসান হাবিব সৈকত নামে আরেক শিক্ষার্থী লিখেন, 'ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার লেখনীর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা উচিত। তাদের শিক্ষার্থীরা মেধায় চাকরির নিয়োগের জন্য আন্দোলন করছে, আর তারা নিশ্চুপ থাকবে, এটা শোভনীয় নয়।'