সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান কর্মীরা

দুই দফা দাবিতে দেশের বিভিন্নস্থানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসব দাবি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার বিদ্যুৎ সচিবের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। কিন্তু সমিতির কর্মীরা আরইবির মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগের আহ্বানে সচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে চান।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও এর অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করে অভিন্ন চাকরি বিধি বাস্তবায়ন এবং সকল চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে গত পহেলা জুলাই থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মী।

অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সেবা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রাহকেরা। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি বিদ্যুৎ সেবা চালু রেখেই দকর্ম বিরতির পালন করছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সহকারী মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস জানান, আরইবি’র স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং সমিতির কর্মীদের ওপর শোষণ, নিপীড়নের কারণে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা বৈষম্য এবং দমন-নিপীড়নের কারণে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গত ১০ মে বৈঠক করেন। ওই সভায় আরইবি’র প্রতি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন আস্থা না থাকার কথা বলা হয়।

রাজন কুমার আরও জানান, সেদিনের আলোচনার এক পর্যায়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে দুই শর্তে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা। শর্ত দুটি হলো- এই ইস্যুতে বরখাস্ত, সংযুক্ত, স্ট্যান্ড রিলিজকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা এবং ১৫ দিনের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা।

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে নিজেদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া উল্লেখ করে সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৭ হাজার ৫৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরইবিতে জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ২ মাস পার হলেও প্রস্তাবনার আলোকে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাময়িক বরখাস্ত ২ জন এবং স্ট্যান্ড রিলিজ থাকা ২ জন কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত অব্যাহতি দিয়ে নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীরা একাধিকবার আরইবির চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হলেও তিনি দেখা করেননি বা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং এই ইস্যুতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিক বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় সমিতির কর্মীরা আবারও কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

‘কর্মসূচি ঘোষণার পর আরইবি কর্তৃক বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে প্রধান অতিথি করে ৫ জুলাই সভা অনুষ্ঠানের একটি দপ্তরাদেশ জারি করা হয়; যেখানে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিনিয়র জিএম-জিএম ও সমিতির বোর্ড সভাপতিগণের সাথে সভা এবং কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সমিতির কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই আলোচনা সভায় অংশ নিতে ইচ্চুক নয়,’ বলেন রাজন কুমার।

মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা, চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্বেও আরইবি’র সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। আরইবির কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধার জন্য বছরের পর বছর ধরে এই বৈষম্য জিইয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোন সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।