গত জুনে ১১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮২২ জন। এর মধ্যে গত এক মাসে ৬৩ নির্বাচনী সহিংসতায় মারা গেছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন ৪০১ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জনই সরকারি দলের নেতাকর্মী।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ নির্বাচনী সহিংসতায় এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্রিক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ও অঙ্গসংগঠনের অন্তর্কোন্দল কেন্দ্রিক সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আগের পাঁচ উপজেলা নির্বাচনের চেয়ে এবার কম ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ভোটার খরার মধ্যেই সারা দেশে হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ প্রায় সকল ধরণের অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এইচআরএসএস বলছে, মাসজুড়ে নির্বাচনী সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও গ্রেপ্তার, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেফাজতে মৃত্যু, গণপিটুনিতে নিরীহ মানুষ হত্যা, সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইনবহির্ভূত আচরণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নির্যাতন ও হত্যার মতো বিভিন্ন বিষয় মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এইচআরএসএস’র তথ্য মতে, জুন মাসে ১৭৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৭ জন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে ৪০ (৭০%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এ ছাড়া ১৫ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ২ জন। ৩৯ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এর মধ্যে ২০ জন শিশু। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৪৩ জন নারী।
অন্যদিকে, ১৩৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৬ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনায় ২৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ১৩ জন। হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ জন ও ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আশঙ্কাজনকভাবে, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর অধীনে দায়ের করা ৪ টি মামলায় ৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অভিযুক্ত করা হয়েছে ১০ জন। একই সময়ে ২৬টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন।