২০২১ সালের ৩ জুলাই, ব্রাজিলের গোয়াইনিয়ায় হয়েছিল কোপা আমেরিকার গত আসরের শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি। আর্জেন্টিনার কাছে প্রথমার্ধে একটি আর ম্যাচের শেষ ৯ মিনিটের মধ্যে আরও দুটি গোল হজম করে সেই ম্যাচ থেকে বিদায় নিয়েছিল ইকুয়েডর। ওই ঘটনার ঠিক ৩ বছর ২ দিন পর, আরও একটি জুলাইয়ের শুরুতে, আরও একটি কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে আরও একবার আর্জেন্টিনার মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। ওই ম্যাচের সময় আর্জেন্টিনা ছিল অতীত ঐতিহ্যের মোড়কে ঢাকা শিরোপা খরায় ভুগতে থাকা একটি দল। আর এবারের আর্জেন্টিনা স্কালোনেতায় ভর করে ত্রিমুকুটজয়ী। কোপা, ফিনালিসিমার পর বিশ্বকাপ ট্রফিটিও জ্বলজ্বলে শোভা বাড়াচ্ছে এএফএ হেড কোয়ার্টারে। লিওনেল স্কালোনির এই আর্জেন্টিনাকে যদি তুলনা করা হয় পৃথিবীর মূল্যবান কোনো হারের সঙ্গে তাহলে সবচেয়ে দামি হীরাটি হলেন খোদ ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।
আজ টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে কি খেলবেন মেসি! আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস বলছে ‘সম্ভবত’ কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই থাকবেন তিনি। ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন পুরোটাই। তারপরও সম্ভবত বলার পেছনের কারণ কোচ লিওনেল স্কালোনির তৈরি করা ধোঁয়াশা। আর্জেন্টিনা কোচ বুধবার সাংবাদিকদের সামনে সৃষ্টি করেছেন এ ধোঁয়াশা। বলেছেন, ‘তার চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়ে কথা বলিনি। আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো। যতটা সম্ভব মেসি অনুশীলন করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ওর সঙ্গে কথা বলেই নেব।’ তবে টিওয়াইসি স্পোর্টস এক প্রকার নিশ্চয়তা দিয়েছে যে মেসি থাকবেন শুরু থেকেই। আর সেক্ষেত্রে বেঞ্চে দেখা যাবে আনহেল ডি মারিয়াকে। আগের ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে অবশ্য অধিনায়ক ছিলেন তিনিই। একাদশে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে জুলিয়ান আলভারেজের। তার জায়গায় শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে চলতি কোপার সর্বোচ্চ গোলস্কোরার লাউতারো মার্তিনেজকে। এবারের কোপায় ৪ বার জাল খুঁজে পেলেও তিন ম্যাচের দুটিতে তিনি খেলেছেন বদলি হয়ে।
কোপা আমেরিকার আসরে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এখনো পর্যন্ত অজেয় দল আর্জেন্টিনা। ১৬ বারের দেখায় ৫ বার ড্রতে সন্তুষ্ট থাকলেও আর্জেন্টিনা জিতেছে বাকি ১১ ম্যাচ। অপটা সুপার কম্পিউটার পূর্বাভাস করেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা ৬৮.৪ শতাংশ। এমন একটি সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ইকুয়েডরের স্প্যানিশ কোচ ফেলিক্স সানচেজ করেছেন উচিত কাজটাই। নৈতিকভাবে সর্বোচ্চ চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছেন দলকে। বলেছেন, ‘আমরা জানি আর্জেন্টিনা কী পরিমাণ অসম প্রতিপক্ষ আমাদের ক্ষেত্রে এবং এটাও জানি এই ম্যাচটি কী পরিমাণ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমরা দেখতে চাই মাঠে কী হয়! এই ম্যাচটি আমাদের জন্য কোনো অংশে ফাইনালের চেয়ে কম নয়। আমরা বিশ্বকাপজয়ী বিশ্বের সেরা দলটির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। দলের সব খেলোয়াড়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমার। আমি জানি আগের তিন ম্যাচের মতোই মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে তারা প্রস্তুত। আমরা জানি, কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই ম্যাচটি জেতার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার পুরোটুকু আমরা করব।’
গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের ৩-০ স্কোরলাইন একপেশে মনে হলেও শরীরী জোরে এগিয়ে থাকা ইকুয়েডর বেশ ভালোই টক্কর দিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। আসর শুরুর আগে মেসি নিজেও প্রশংসা করেছেন নতুন প্রতিভার সমন্বয়ে গড়া এবারের দলটির। এবার তার পুনরাবৃত্তি করতে হলে সানচেজের ভরসা রাখতে হবে দলটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়ার ওপরেই। এছাড়া সানচেজের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবেন তার দুই তরুণ প্লেমেকার জেরেমি সারমিয়েনতো এবং ১৭ বছরের বিস্ময় বালক কেনদ্রি পায়েজ। ফুটবল বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে ভ্যালেন্সিয়াকে অগ্রভাগে রেখে ৪-৩-২-১ ফরমেশন হতে পারে ইকুয়েডরের শক্তি প্রদর্শনের জায়গা। কেননা মাসখানেক আগে শিকাগোর প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে ভ্যালেন্সিয়া মাঠে নামার পর ‘লা ত্রি’দের এই ফরমেশন বেশ ভুগিয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।
আর ফর্মে থাকা অস্ত্রগুলোর পূর্ণ ব্যবহার করে ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন স্কালোনি। যেখানে লাউতারো ও আলভারেজকে এক সঙ্গে খেলাতে পারেন তিনি, ‘একসঙ্গে দুজনকে খেলানো হতেই পারে। অনুশীলনে আমরা এটা নিয়ে কথা বলব। একসঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনা আমি বাতিল করছি না। মার্তিনেস এবারের কোপায় দারুণ করছে। সে সুযোগের অপেক্ষা করেছে আর কাজে লাগিয়েছে, এজন্য আমি ভীষণ সন্তুষ্ট।’ সেটি হোক না হোক সেই ২০১৫ সালে ইকুয়েডরের কাছে সবশেষ হারের স্মৃতি অবশ্যই মনে রাখতে চাইবেন না আলবিসেলেস্তেরা।