রোনালদোর ‘যুদ্ধ’ নাকি ফরাসি আক্রমণ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তখন ফর্মের তুঙ্গে। ব্যালন ডি’অর আর ফিফা দ্য বেস্ট নিয়ে প্রতি বছর লিওনেল মেসির সঙ্গে হয় ইঁদুর-বিড়াল খেলা। তবে দুজনের কারোরই ছিল না আন্তর্জাতিক কোনো শিরোপা। তবে ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেই অপবাদ ঘুচিয়ে ছিলেন সিআরসেভেন। যদিও ম্যাচটির ২৫ মিনিটে চোট পেয়ে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে তাকে ছাড়াও দল জিততে পারে ফরাসিদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে, ৮ বছর আগেই সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।

বছর আট পরে আবার সেই ইউরোতে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। তবে এবার লড়াইটা কোয়ার্টার ফাইনালে। যারা জিতবে তারা যাবে সেমিফাইনালে। হারলেই নিশ্চিত হবে বিদায়। ইউরোপের অন্যতম ফেভারিট এই দলটির তারকা হিসেবে মাঠে দুই দশক ধরে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সিআরসেভেন। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে তিনি এখন আছেন অনেক দূরে। একালের কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দৌড়ের গতির কাছে ৩৯ বছরের রোনালদোকে ‘অচল’ বললে ভুল কিছু হবে না।

যার প্রমাণ গত দুই ম্যাচেও দেখিয়েছেন তিনি। ইউরোর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্জিয়ার বিপক্ষে রোনালদোকে ৬৫ মিনিটে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়েছিলেন পর্তুগাল কোচ। এতে ক্ষেপে গিয়ে ডাগআউটে পড়ে থাকা বোতলে লাথি মারতে দেখা যায় সিআরসেভেনকে। শেষ ষোলোর ম্যাচে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিও মিস করেছিলেন তিনি। আবেগ ধরে না রাখতে পেরে কেঁদে দিয়েছিলেন। পরে খেলা যখন টাইব্রেকারে গড়ায়, সেখানে আবার গোল করেন ৭ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। পরে ফেটে পড়েন উল্লাসে, আপ্লুত হয়ে ক্ষমা চান দর্শকদের কাছে।

চলতি বছরে রোনালদো ক্লাবের হয়ে ২০ ম্যাচ খেলে ২০ গোল করেছেন। যার বেশিরভাগই ক্লাবের হয়ে। জাতীয় দলের হয়ে প্রীতি ম্যাচে তিনি দাপট দেখিয়েছেন। তবে জার্মানিতে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেও পাননি গোলের দেখা। মিস করেছেন পেনাল্টিও। তাতেই স্পষ্ট রোনালদোর সেই ধার আর নেই। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে দেখাতে হবে সেই পুরনো ঝলক। যদিও এটা অবাস্তব। তবুও তাকে নিয়েই পরিকল্পনা সাজাতে চান দলটির কোচ রবার্তো মার্তিনেজও।

তিনি বলেছেন, ‘রোনালদো আমাদের অধিনায়ক। সময়টা এখন তার ভালো যাচ্ছে না। সে দেখিয়েছে জীবনে কঠিন কিছু মুহূর্ত আসে। তাই বলে আমরা হাল ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে তাকে নিয়ে। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে খুঁতগুলো খুঁজে বের করতে হবে।’

অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সেদিন স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করে কেঁদে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে চলেছে একটি যুদ্ধ।’ যে দলকে হারিয়ে ইউরোপ সেরার মুকুট জিতেছিল রোনালদোর দল, সেই দলের বিপক্ষে কেন হতে যাবে যুদ্ধ? সেটা অবশ্য পরিষ্কার হয় পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই। দুই দলের ২৮ দেখায় ১৯ জয় ফরাসিদের, ৬টি পর্তুগালের। বাকি তিনটি হয়েছে ড্র। তাই লড়াইয়ে নামার আগে মানসিকভাবে ফ্রান্সই এগিয়ে থাকবে।

ম্যাচের আগে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই খুশি। টুর্নামেন্টের প্রতিটা মুহূর্ত আমরা উপভোগ করেছি। আমরা শেষ আটে উঠেছি বলে আবেগে ভেসে যাব না, সামনের ম্যাচেও আমরা জিততে চাই। অবশ্যই সেটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।’

লড়াইটা আবার একদিক দিয়ে হবে লা লিগার দল রিয়াল মাদ্রিদের অতীত ও বর্তমানদের। সিআরসেভেন ছিলেন একসময়ের রিয়াল তারকা। তবে ৬ বছর আগে দল বদল করেছিলেন। তারপর আরও দুই ক্লাব ঘুরে এখন তিনি থিতু হয়েছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে। আর নতুন মৌসুমেই আল নাসর তারকার সাবেক ক্লাব রিয়ালের জার্সিতে অভিষেক হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের। দুজনেরই জার্সি নম্বর ৭। ফরাসি ৭ নম্বর জার্সিধারী আবার আসরে খেলতে নেমেই ভেঙেছেন নিজের নাক। মুখোশ পরে তাকে দেখা গিয়েছিল শেষ ম্যাচে খেলতে। রোনলদো যেন গোল শিকারি, এমবাপ্পেও তাই। ভাঙা নাক নিয়েও এই ‘গোলমেশিন’কে খেলতে দেখা যাবে কি না সেটা নিয়ে রয়েছে কিছুটা ধোঁয়াশা।