দর্শক জার্মানি সেমিতে স্পেন

ঘরের মাঠে ইউরোতে শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে দর্শক বানিয়ে দিয়েছে স্পেন। স্টুটগার্টে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লা রোজারা।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল দুই দল। মাঝমাঠের শান্ত টনি ক্রুসকে এদিন দেখা গেছে আগ্রাসী মেজাজে। তার কৌশলী আঘাতে ম্যাচের ৮ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় পেদ্রিকে। খেলার ৪ মিনিটেই বার্সেলোনার এ প্রাণভোমরার পায়ে আঘাত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। স্প্যানিশরা ক্রুসকে কার্ড দেখানোর দাবি তুলেছিলেন। ভিএআরও দেখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি।

প্রথমার্ধে এমন আক্রমণাত্মক ফুটবলে কার্ড দেখাদেখি হলেও গোলের দেখা কেউ পায়নি। গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে জার্মানি। তবে ৪৮ মিনিটে ইয়ামাল একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মোরাতা সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। তবে তিনি না পারলেও পেদ্রির বদলি নামা দানি ওলমো ৫১ মিনিটেই জার্মান সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন। এখানেও গোলে অবদান ইয়ামালেরই। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

গোল হজম করে সেটা শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানরা। কিন্তু ভালো কয়েকটা সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তবে ৮৮ মিনিটে জশুয়া কিমিচের হেড থেকে পাওয়া বল দারুণ শটে গোল করে সমতায় ফেরান ফ্লোরিয়ান বির্টজ। তাতে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। খেলার ১০৭ মিনিটে পেনাল্টি পেতে পারত জার্মানরা। ফুলক্রুগের শট ডি-বক্সের ভেতরে থাকা কাকুরেলার হাতে লাগে, যা স্পষ্ট দেখা যায়। কিন্তু রেফারি তাতে সায় দেননি। এমনকি ভিএআরও চেক করেননি। তবে পেনাল্টির আবেদন না করে ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েছিলেন জামাল মুসিয়ালা। চেষ্টা করলে হয়তো গোলের দেখা পেয়েও যেতেন।

নিজ ঘরের মাঠে জার্মানরা গোলবঞ্চিত হলেও দমে থাকেনি স্প্যানিশরা। ম্যাচের ১১৯ মিনিটে প্রথম গোলদাতা দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোলকিপার নয়্যারকে পরাস্ত করেন মিকেল মেরিনো। তাতেই গ্যালারিতে নামে নীরবতা। শেষ পর্যন্ত এ গোলেই জার্মানিকে ইউরোর দর্শক বানিয়ে দেয় স্পেন। শেষ মুহূর্তে মুসিয়ালাকে বাজেভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার দানি কারভাহাল।