ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন সংস্কারপন্থী মাসুদ পেজেশিকিয়ান। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী সাঈদ জলিলিকে পরাজিত করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দফা ভোটে ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ জলিলিকে ভোট পেয়েছেন ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। শুক্রবারের নির্বাচনে সাঈদ জালিলির চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। পেজেশকিয়ান পেয়েছেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ভোট পেয়েছেন। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জালিলি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোট। 

শনিবার পৃথক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে আল জাজিরা ও দ্যা গার্ডিয়ান।

গত ২৮ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় কোনো প্রার্থীই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় রান অফে গড়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রথম দফার নির্বাচনে ইরানের ৬ কোটি ১০ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানে যত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতির ঘটনা।

বিবিসি জানায়, ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই, ড. পেজেশকিয়ানের সমর্থকরা তেহরান এবং অন্যান্য কয়েকটি শহরের রাস্তায় উদযাপন শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেশিরভাগ তরুণরা নাচছে এবং তার প্রচারণার স্বাক্ষরিত সবুজ পতাকা নাড়ছে।

সংস্কারপন্থী মাসুদ পেজেশিকিয়ান একজন সাবেক হার্ট সার্জন। তিনি বরাবরই দেশটির সংস্কারের পক্ষে। ইরানের কুখ্যাত নৈতিকতা পুলিশের সমালোচনাও করেছেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হিজাব আইন প্রত্যাহারের। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। 

ইরানের ক্ষমতা বেশ কয়েক বছর ধরে রক্ষণশীলদের হাতে রয়েছে। তবে পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সংস্কারপন্থিরা আশার আলো দেখছেন। গত মে মাসে ইরানের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছিল।