বাংলা সিনেমার প্লেব্যাক সম্রাট বলা হয় এন্ড্রু কিশোরকে। আজ জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী । ২০২০ সালের আজকের এই দিনে (৬ জুলাই) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার বিদায়ে কেঁদে উঠেছিল শোবিজ অঙ্গন।
এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে, ১৯৫৫ সালে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে সঙ্গীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান শাখায় তালিকাভুক্ত হন।
১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই’ শিরোনামে গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর একাধিক সিনেমায় গান করেন। ১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। বাংলা চলচ্চিত্রে ১৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।
তিনি সারেন্ডার (১৯৮৭), ক্ষতিপূরণ (১৯৮৯), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), কবুল (১৯৯৬), আজ গায়ে হলুদ (২০০০), সাজঘর (২০০৭) ও কি যাদু করিলা (২০০৮) চলচ্চিত্রের গানের জন্য আরও সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। মোট আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার ও দুইবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
শারীরিক অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এন্ড্রু কিশোরকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পরে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। এরপর নিজের ইচ্ছেতেই ২০২০ সালের ২০ জুন রাজশাহীতে আনা হয় তাকে। এরপর তিনি মহানগরীর মহিষবাথানে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় বসবাস শুরু করেন। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৫ জুলাই রাজশাহী সার্কিট হাউস সংলগ্ন খ্রিস্টান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।