রোনালদোর ইউরো-যাত্রা থামিয়ে দিল ফ্রান্স

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শেষ ষোলোর ম্যাচের পর জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটি তার শেষ ইউরো টুর্নামেন্ট। ফলে একটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল নকআউট রাউন্ডে পর্তুগাল হেরে গেলে সেটিই হবে ইউরোতে সিআরসেভেনের শেষ ম্যাচ। শেষ ১৬তে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি মিস করলেও পরে টাইব্রেকারে গোল করে পর্তুগালকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের সঙ্গে সেটা হলো না। ১২০ মিনিটের গোলশূন্য খেলার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স। বিদায় নিয়েছে ২০১৬-র চ্যাম্পিয়নরা।

টাইব্রেকারে ফ্রান্স আগে শট নেয়। প্রতিটি শটই জালে জড়ায় ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা। পর্তুগালের তৃতীয় শটটি নেন জোয়াও ফেলিক্স। গোলকিপারের ডানদিক দিয়ে শট মারেন ফেলিক্স, সেটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ফেলিক্সের ওই মিসেই এবার ইউরো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে। ম্যাচশেষে পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রিয় শিষ্যের। আর ম্যাচ হারের পেছনে দুর্ভাগ্যকেই কারণ হিসেবে দেখছেন, ‘দলের সবাই পরস্পরের পাশে আছে এবং পেনাল্টিতে তারাই ব্যর্থ হয় না, যারা কখনো পেনাল্টি নেয় না। মূল ম্যাচে জোয়াও যথেষ্টই নিয়ন্ত্রণে ছিল, কঠোর পরিশ্রম করেই নিজেকে এই জায়গায় নিয়ে গেছে। পেনাল্টিতে গোল না করতে পারাটা স্রেফ দুর্ভাগ্য।’

হারের কারণ যাই হোক, আরও একবার পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ। গত আসরে বাদ পড়েছিল তারা শেষ ষোলো থেকে, এবার কোয়ার্টারে গিয়ে থামল পর্তুগাল। কোচ মার্তিনেজ গর্বিত দলের পারফরম্যান্সে। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার কথা বলেন। ‘আমরা হেরেছি, তবে গর্ব নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। প্রতিটি মিনিট নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি, সত্যিকারের পর্তুগিজ ধরনেই। এখানেই থামব না আমরা। ভবিষ্যতে আবার নিজেদের উজাড় করে দেব আমরা।’

এদিকে ফেলিক্সের মিসের কারণ জানিয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমবাপ্পে। বলেন, ‘সে (মাইকনান) ভীতিকর। আমি সঠিক বিশ্লেষণ জানি না কিন্তু ফেলিক্স যে পোস্টে মেরেছে তার কারণ, সে ভাবছিল সামনে এমন এক গোলিকপার আছেন যে বলটি ধরে ফেলবে। আমরা সফল হয়েছি আর তার বড় কারণ মাইক।’

এমবাপ্পে অবশ্য টাইব্রেকারের সময় ছিলেন ডাগআউটে। যে দৃশ্য বিরলই বটে। ম্যাচের ১০৫ মিনিটে এমবাপ্পেকে বদলি করেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ম্যাচ শেষে দেশম জানান, সিদ্ধান্তটির পেছনে বড় প্রভাবক ছিলেন স্বয়ং এমবাপ্পে। ‘সে সবসময়ই আমার কাছে ও দলের প্রতি সৎ। যখন তার মনে হয় যে, গতি ধরে রাখতে পারছে না বা নিজের সেরা অবস্থায় নেই (নিজে থেকেই সেটা বলে দেয়)... সত্যি বলতে, সে খুবই ক্লান্তি অনুভব করছিল।’ পরে এমবাপ্পে নিজেই বলেন, ‘আমিই বলেছিলাম আমাকে তুলে নিতে... অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষে তাকে (কোচ) বলেছি, ‘আর পারছি না’, খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’

ইউরোর গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচে নাক ভেঙেছিল এমবাপ্পের। এরপর গ্রুপে ফ্রান্সের তৃতীয় ম্যাচ থেকে এমবাপ্পে খেলছেন মাস্ক পরে। মাস্ক পরে থাকার কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকছেন এমবাপ্পে তা জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ। ফ্রান্স সেমিফাইনালে খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। স্পেন ২-১ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে।