ব্রাজিল মানেই ছন্দবদ্ধ ফুটবল। সাম্বার ছন্দে আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল ধসিয়ে দেওয়া। কিন্তু এ কোন ব্রাজিলকে দেখা গেল কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে? এই ব্রাজিলের কোনো ছন্দ নেই, নেই কোনো সৌন্দর্য। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ৯ বারের কোপা আমেরিকা শিরোপাজয়ীরা নিজেদের জৌলুস হারিয়েছে। এখন তাদের পারফরমেন্স ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হাসির খোরাক।
আর্জেন্টিনার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৫বার কোপার শিরোপাজয়ী উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে চলতি আরস থেকে ব্রাজিলের বিদায় ঘটল। রোববারের ম্যাচটিতে এক পর্যায়ে উরুগুয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ব্রাজিল গোল করতে পারেনি। তাদের উদ্দেশ্যবিহীন এলোমেলো ফুটবল দেখে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে- হলুদ জার্সিতে খেলা এই দলটা কি সত্যিই ব্রাজিল?
চোটের কারণে নেইমার এবার কোপায় খেলতে পারছেন না। পরপর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও আজ মাঠে ছিলেন না। তারা থাকলেও কি পরিস্থিতি বদলাত? সম্ভবত না। গত দুই বছর ধরেই তো ব্রাজিলের ফুটবলে শনির দশা চলছে। কাতার বিশ্বকাপে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাদের কোচ নিয়োগ দিতেই প্রায় দেড় বছর লেগে গেছে। দরিভাল জুনিয়রের প্রথম বড় মিশন এভাবে শেষ হবে কে জানত?
অথচ এই ব্রাজিল পেলে, গারিঞ্চা, সক্রেটিস, জিকো, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনিওর মতো কী অসাধারণ সব প্রতিভা উপহার দিয়েছে। বর্তমান দলটিতে এদের ধারেকাছেও কেউ নেই। উরুগুয়ে বরাবরের মতো তাদের ট্রেডমার্ক শরীরনির্ভর ফুটবল খেলেছে। বিপরীতে রাফিনিয়া-রদ্রিগো কিংবা ভবিষ্যৎ তারকা এনদ্রিকও তেমন কিছুই করে দেখাতে পারেননি। আর আলিসন বেকার ক্রমেই নিজেকে ‘ওভাররেটেড’ হিসেবে প্রমাণ করে যাচ্ছেন।
মোটকথা, ক্রিকেটের একসময়ের মহাপরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ফুটবলেও নিজেদের সেরা সময় ফেলে এসেছে ব্রাজিল। হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের ঐতিহ্য। এই সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত হবে এমনটা আশা করার সুযোগ নেই। সমস্যার মূল খুঁজে বের করতে হবে দরিভাল জুনিয়রকে। নাহলে একের পর এক ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের হাসির খোরাক জুগিয়েই যাবে তার শিষ্যরা।