পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও অস্থির পেঁয়াজের বাজার

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের পরেও পাবনায় অস্থির পেঁয়াজের বাজার। দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এ জেলায় প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এমন দামকে অস্বাভাবিক বলছেন পাইকারী বিক্রেতারাও। 

বিক্রেতারা জানান, উচ্চ শুল্কের কারণে সম্প্রতি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে। এই খবরে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও হাটে বাজারে পেঁয়াজ কম আনছেন মজুতদাররা। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে, পেঁয়াজ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার ও মজুতদারদের পেঁয়াজের গুদাম মনিটরিংয়ের পরামর্শ প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের।

রবিবার (৭ জুলাই) পাবনার বড় বাজার পেঁয়াজের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। কিছুটা নিম্ন মানের আংশিক পচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। 

বড় বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার আব্দুল মুকুল জানান, সুজানগর সাঁথিয়ায় বড় বড় সব কৃষকের চাতালেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে। কিন্তু আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে না থাকায় তারা অল্প অল্প করে পেঁয়াজ হাটে আনছেন। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। প্রান্তিক কৃষকের হাতে পেঁয়াজ নেই, বড় কৃষকরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ করে সুযোগ নিচ্ছেন।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন বলেন, দেশের উৎপাদন হওয়া পেঁয়াজে সারা বছর চলবে না এটা বড় ব্যবসায়ী, মজুতদাররা জানে। উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আনছেন না। এতে দেশের পেঁয়াজের উপর চাপ পড়ায় দাম বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে ২২০০ টাকা মণের পেঁয়াজ ৩৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি এড়িয়ে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আমদানির কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। নয়তো পেঁয়াজের বাজার ক্রমেই উর্ধ্বমূখী হবে।

পাবনা হাজিরহাটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে হাটে পেঁয়াজের আমদানি কম। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ঢাকার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা হাটে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয়। ফলে, স্থানীয় কৃষক বা আড়তদারদের কিছুই করার থাকে না। প্রশাসনিক নজরদারি বাজারে নয় মজুতদারদের গুদামে করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও মজুতদারেরা উৎসাহ হারাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে পাবনায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ হাজার মেট্রিক টন বেশি। মাত্র কিছুদিন আগেই উত্তোলন মৌসুম শেষ হয়েছে। পেঁয়াজের কোন সংকট নেই। 

পাবনার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, 'এখন পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। কৃষকদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও তারা অল্প পরিমাণে বিক্রি করছেন, ফলে দাম বেড়েছে।'