সাজ ঠিক কিনা দেখতেই কি লিফটে আয়না?

ব্যাংক কর্মকর্তা নুসরাত জাহান প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে তৈরি হয়ে অফিসে যাওয়ার পথে লিফটে উঠেই প্রথমে দেখে নেন, সাজটা ঠিক আছে কিনা। ড্রেসটা মানিয়েছে তো। এরপর অফিসে এসে সাত তলায় লিফটে ওঠার সময়ও আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতেই সময় শেষ। বর্তমানে প্রায় সব লিফটেই আয়না দেওয়া থাকে। এটা কি শুধু সাজ-গোজ আর শাড়ির ভাঁজ ঠিক করতেই দেওয়া হয়, নাকি অন্য কোনো কারণও আছে?

অনেকে বলেন, লিফটে আয়না লাগানো হয় যাত্রী বা আরোহীদের মনটাকে একটু ব্যস্ত রাখার জন্য। কারণ ওপরের দিকে ওঠাটা শরীরের পক্ষে অস্বস্তিকর। বদ্ধ জায়গায় অনেকেরই দম-বন্ধ লাগে, একে ক্লাসট্রোফোবিয়া বলে। এমন হলে যাদের ছোট জায়গায় থাকতে ভয় হয় তারা জায়গাটা ছেড়ে আর বের হতে পারবেন না। ফলে আয়না লাগালে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয় জায়গাটা অনেকটা বেড়েছে।

লিফটের ভেতর যাত্রীরা কিছুই করতে পারেন না, বিরক্ত হন, ভয়ও পান। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে লিফটে লাগানো হলো আয়না। আয়না থাকলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদেরও খুব সাহায্য হয়। লিফটের ভিতরে এগিয়ে আসতে বা পিছিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, আয়না দেখে খুব সহজেই তারা পিছনে কতটা জায়গা আছে তা বুঝতে পারেন। আর এই একঘেয়েমি কাটাতে আয়নার তুলনা হয় না। নিজেকে দেখতে দেখতেই কখন যে গন্তব্য ফ্লোরে পৌঁছে যাবেন টের পাবেন না।

লিফট ব্যবহারের কিছু নিয়ম

শৃঙ্খলা বজায় রাখুন

লিফটের সামনে ভিড় না করে দরজার সম্মুখভাগে জায়গা রেখে একটি লাইনে দাঁড়ান। একাধিক লিফট থাকলে একটি নির্দিষ্ট লিফটের জন্য না দাঁড়িয়ে বিকল্প লিফট ব্যবহার করুন।

লিফটের দরজাজুড়ে দাঁড়াবেন না

নামার সময় বিশেষ করে যারা একেবারে নিচতলায় নামছেন তারা লিফটের দরজা খোলার পর অযথা দরজা আটকে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। আবার যিনি উঠতে চাইছেন তিনিও লিফটের দরজা আটকে দিয়ে দাঁড়াবেন না। আগে নামতে দিন, এরপর উঠুন।

অন্যের পথ আটকাবেন না

ওঠার সময় নিজের পছন্দমতো তলার বাটন চাপতে গিয়ে আরেকজনের লিফটে প্রবেশের পথ রুদ্ধ করবেন না। এছাড়া অনেকে আগে উঠে লিফটের দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে যান। এটা না করে লিফটের দুই পাশে ঘেষে দাঁড়ান অথবা পেছন দিকে চলে যান। সব সময় লিফটে প্রবেশের জায়গাটা উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।

সৌজন্যবোধের পরিচয় দিন

লিফটে ওঠা-নামার সময় বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা, শিশুদের অসুবিধা যেন না হয় তা নিশ্চিত করে সৌজন্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন। ভিড়ে ঠাসা লিফটে ধারণ ক্ষমতা অতিক্রমের সংকেত পেলে যিনি সবার শেষে উঠেছেন তিনি নিজে থেকেই নেমে যাবেন, অন্যদের চেপে দাঁড়ানোর অনুরোধ করবেন না।  

লিফটের ভেতরে যে আচরণ কাম্য

লিফটম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ না থাকলে দরজার কাছে দাঁড়ানো কাউকে আপনি যে তলায় নামবেন সেটির বাটন চাপতে অনুরোধ করুন। লিফটে উঠে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে ফোনে কথা বলার চেষ্টা না করাই ভাল, কারণ লিফটের ভেতরে নেটওয়ার্ক থাকে না। ফোনে অডিও-ভিডিও চালাবেন না। একে অন্যের থেকে স্বাভাবিক দূরত্ব বজায় রাখুন, অন্যের অস্বস্তির কারণ হবেন না। কেউ দুই তলা-তিন তলায় যাবেন বলে বাটন চাপলে ‘এতটুকু উঠতে লিফট লাগে’ এমন অযাচিত মন্তব্য না করাই ভদ্রতা। ভেতরে ময়লা ফেলবেন না, অস্বস্তিকর গন্ধযুক্ত কিছু বহন করলে অবশ্যই তা ভাল করে ঢেকে, আটকে রাখুন।

শপিংমলে লিফটের কায়দাকানুন

শপিংমলে সাধারণত লিফটের বিকল্প চলন্ত সিঁড়িও থাকে। শারীরিকভাবে সক্ষম হলে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ১, ২ তলায় যেতে চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করাই ভাল। এতে যারা আরও উপরের ফ্লোরগুলোতে যাবেন তারা লিফটের সুবিধা পেতে পারেন। পুরোপরিবার অথবা বন্ধুবান্ধবরা কয়েকজন শপিংমলে গেলে লিফটে ওঠা-নামার সময় অন্যের বিরক্তি-অসুবিধার কারণ যেন না হন সেদিকে খেয়াল রাখুন।

হাসপাতালের লিফটে দায়িত্বশীল আচরণ

ভিজিটর হিসেবে হাসপাতালে গেলে লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আগে সুযোগ দিন। জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বজনেরা জরুরি ওষুধ বা খাবার নিয়ে লিফটে উঠছেন, এমনটা বুঝলে তাদেরও আগে যেতে দেওয়া উচিত। কেউ রক্তদাতা হিসেবে নিজের পরিচয় দিলে তাকেও জায়গা ছেড়ে দিন। রোগী অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য আলাদা লিফট থাকলে সেটাতে ওঠার জন্য জবরদস্তি করবেন না।