৬ মৃত্যুতে বিষাদে রথযাত্রা

বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আমতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ধর্মীয় আচার আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব গতকাল রবিবার থেকে শুরু হয়েছে।

বাংলা বর্ষের আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এ উৎসব শুরু হয়। ১৫ জুলাই উল্টোরথযাত্রার মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মা-। আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। এর আলোকে জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। জগন্নাথের অনুগ্রহ পেলে মানুষের কল্যাণ ও মুক্তিলাভ হয়। চিরাচরিত এই বিশ্বাস থেকে রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে তাকে সাজিয়ে রথ টেনে নিয়ে যাত্রা করেন সনাতন ধর্মের অনুসারীরা। রথযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গতকাল দেশব্যাপী আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন বয়সীর হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। 

রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কয়েক দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমদ্ভাগবত গীতাপাঠ, যজ্ঞানুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, পদাবলি কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা সভা। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গতকাল সকালে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্রযজ্ঞ, দুপুরে ভাগবতীয় আলোচনা সভা, বেলা আড়াইটায় রথযাত্রার উদ্বোধন এবং বেলা ৩টায় স্বামীবাগ থেকে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির-ইত্তেফাক মোড়-শাপলা চত্বর-দৈনিক বাংলা মোড়-রাজউক ভবন-গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ৬ জন নিহত হওয়ায় আনন্দ উৎসব বিষাদে রূপ নেয়। বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আমতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে ৫ জন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ১ জন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মারা গেছে বলে জানা গেছে। নিহতদের ৪ জনের নাম অতশী, অলক, নরেশ ও রণজিতা। একজনের নাম পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, বিকেলে সেউজগাড়ি ইসকন মন্দিরে রথযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর আসনের এমপি রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীসহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে রথযাত্রার উদ্বোধনের পর দড়ি ধরে ভক্তরা রওনা করে। রথ রওনা করলে সেউজগাড়ি আমতলা মোড় এলাকায় বিদ্যুতের তারের সঙ্গে রথের মাথা লেগে আগুন ধরে যায়। রথের ওপরে থাকা অনেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় অনেক নারী ভক্ত আহত হয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অরূপ, প্রিয়াসসহ অনেকে জানান, রথযাত্রার উদ্বোধনের পরপরই সেউজগাড়ি আমতলা মোড়ে রথের মাথার সঙ্গে বিদ্যুতের তার লেগে আগুন ধরে যায়। এ সময় রথের ওপরে থাকা কয়েকজন লাফিয়ে নিচে পড়ে। রথটি লোহার রডের হওয়ায় রথ ধরে থাকা নারীরা বিদ্যুতায়িত হয়। এ সময় লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ৫ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ৩ নারী ও ২ পুরুষ।

স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আশিক জানান, বিদ্যুতের তারের সঙ্গে লেগে রথ বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে ৬ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ২০ জন।