খেলছে অন্যরা দেখছে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ভারতীয় দল বার্বাডোজ থেকে দেশে ফেরার আগেই জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্যে বিমানে চড়েছে ভারতের আরেকটি ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের ছাড়াই শুভমান গিলের নেতৃত্বে যে দলটা জিম্বাবুয়ে গেছে, এই দলটা থেকেই নিশ্চয়ই উঠে আসবেন রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলির উত্তরসূরিরা। বিশ্বকাপের আয়োজন শেষে টেস্ট খেলতে ইংল্যান্ডে পৌঁছে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও। ‘বাজবল’ নিয়ে নতুন এক ইংলিশ গ্রীষ্মের সূচনার অপেক্ষায় ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকসের যুগলবন্দি। জিম্বাবুয়ে সফরের পর ভারত খেলতে যাবে শ্রীলঙ্কায়, এলপিএল শেষে লঙ্কার ক্রিকেটাররাও ব্যস্ত হয়ে যাবেন আন্তর্জাতিক সূচিতে। খেলা নেই শুধু বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ পিছিয়ে দেওয়াতে বাংলাদেশ এখন মাস দেড়েকের জন্য শুধুই দর্শক। ২৫ জুন, ২০২৪-এর পর বাংলাদেশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচটা মাঠে গড়াবে ১৭ আগস্ট।

ভারত একাধিক দল করেছে টি-টোয়েন্টিতেই। ইংল্যান্ড লাল বল এবং সাদা বলের খেলোয়াড় এমনকি কোচও করে ফেলেছে আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বুধবার থেকে শুরু টেস্ট সিরিজের ইংল্যান্ড দলে হ্যারি ব্রুকই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে থাকা একমাত্র ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও অনেকটাই তাই; টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে শুধু আলজারি জোসেফ, গুডাকেশ মোতি আর শামার জোসেফ আছেন। বাংলাদেশের আফগানিস্তান সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার ফলে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম খেলতে পারছেন এলপিএলে, সাকিব আল হাসান খেলছেন মেজর লিগ ক্রিকেটে। বাকিদের চলছে ছুটি। কোচিং স্টাফের সদস্যরাও বিশ্বকাপ শেষে গেছেন ছুটিতে, আসবেন পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি শুরুর আগেভাগে। অথচ এই সময়টায় গোটা বিশ্বকাপে খারাপ করা ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কাজ করতে পারতেন ব্যাটিং কোচ। সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কাজ করার সময় থাকেই না, এই মাস দেড়েক সময়টা কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল, এমনটাই মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষক এবং বিসিবির সাবেক কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম। দেশ রূপান্তরকে ফাহিম জানান তার আক্ষেপের কথা, ‘এখন এদের (ব্যাটসম্যানদের) হয়তো টাইগার ক্রিকেট (বাংলাদেশ টাইগার্স) এসবের মধ্যে ঢুকিয়ে দেবে, আমি জানি না কী করবে। অফকোর্স, পৃথিবীর কোথায় কী হয় সেটার জন্য তো আমাদের বসে থাকা উচিত না। আমরা তো জানি আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমাদের খেলোয়াড়দের কিছু খুঁটিনাটি জিনিস দেখিয়ে দেওয়া দরকার, কারেকশনের দরকার। এবং এটাই আদর্শ সময়। আমরা আগস্টে টেস্ট খেলতে যাচ্ছি, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের দিকে দল পাকিস্তানে চলে যাবে। কোচরা হয়তো সাতদিন আগে আসবে, এসে সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করাবে। ওয়ান-টু-ওয়ান, হাতে ধরে ধরে কাজ শেখানো, সেটা ব্যাটিং হতে পারে, ফিল্ডিং হতে পারে, উইকেটকিপিং হতে পারে, এনিথিং অ্যান্ড এভরিথিং, সেটা করতে পারত। এই সময়ে ঐ চেষ্টাটা আমরা করতে পারতাম। যারা পলিশড টিম তাদের হয়তো অতটা দরকার হয় না তবে আমাদের তো দরকার আছে।’

কিছুদিন আগে সাবেক প্রধান নির্বাচক এবং বর্তমানে বিসিবির প্রধান প্রোগ্রাম সমন্বয়ক মিনহাজুল আবেদীনও উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন,‘আমরা বিদেশি কোচদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি কি না? তারা স্কিল ট্রেনিং করাতে পারছেন কি না? বা স্কিল ট্রেনিংয়ে যথেষ্ট সময় ব্যয় করছেন কি না? সেটা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। সেই কাজগুলো হয়নি। হয় না। আমার জানা মতে, আমরা এমনভাবে কোচদের সঙ্গে চুক্তি করি এবং তাদের কাজের ধরন ও গতিপ্রকৃতি এমন যে, তাদের কাছ থেকে সেরাটা নেওয়ার ও পাওয়ার সুযোগই কম। বিদেশি কোচ নিয়ে আসি ঠিক আছে; কিন্তু এদের দিয়ে আরও বেশি কাজ করানো যায়। কিন্তু আমরা তা করাই না। করাতে পারি না। ভিনদেশি কোচদের যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না। আমরা ব্যবহার করতে পারি না।’

বছরের প্রথম ৬ মাস কেটেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং অংশগ্রহণে। পরের ৬ মাসে টেস্টের ব্যস্ততা বেশি, সূচি থেকে ছাঁটাই হয়ে গেছে ওয়ানডে। অথচ পরবর্তী বৈশ্বিক আসর ৫০ ওভারের ক্রিকেটের, পাকিস্তানে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দলের এই আসরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য গ্রুপ প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলবে মাত্র ৩টা আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ। এই সময়ে ভারত খেলবে দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩টা ওয়ানডে, শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে। এছাড়াও সাদা বলের খেলায় ভারতের ব্যস্ততা বেশি টি-টোয়েন্টিতে। চলমান জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ টি-টোয়েন্টি, শ্রীলঙ্কায় ৩টি, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪টি এবং দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে  ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশের আগামী ৭ মাসে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মাত্র ৬টি, ভারতের বিপক্ষে ৩টি আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩টি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে দেশে কোনো ওয়ানডে সিরিজ নেই, বরং টানা ক্যারিবিয়ান সফরে আছে তিন সংস্করণেরই খেলা। পাকিস্তান যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে, সেখানেও সুযোগ করে নেওয়া সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের পক্ষে। বছরের বাকি সময়টায় তাই বাংলাদেশ দল খেলবে কম, দেখবেই বেশি। সূচিটাই যে এমন!