নিয়তি তিতাকে টেনে আনছে বাংলাদেশে

কিছুদিন আগেই স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে টানা পাঁচবারের লিগ সেরা বসুন্ধরা কিংস। এরপর থেকেই ফুটবলপাড়ায় গুঞ্জন কে হবেন কিংসের নতুন বস। শেষ পর্যন্ত জানা গেল তার নাম। আগামী মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের ডাগআউট সামলাবেন রোমানিয়ার অভিজ্ঞ কোচ ভ্যালেরিউ তিতা। ৫৮ বছর বয়সী তিতা খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন একজন মিডফিল্ডার। ২০০০ সালে পাকাপাকি খেলা ছাড়ার পর থেকেই শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী এই কোচ সিরিয়া জাতীয় দলের দুবার কোচ ছিলেন। তার অধীনে ২০২১-২২ সালে সিরিয়া ফিফা আরব কাপ ও ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেয়। সর্বশেষ তিতা ছিলেন সৌদি আরবের প্রথম বিভাগের দল আল-আইনের কোচ।

প্রায় দুই যুগের ফুটবল ক্যারিয়ারে ভ্যালেরিউ তিতা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের ক্লাবকে কোচিং করিয়েছেন এবং সাফল্য এনে দিয়েছেন। তার ইরাক, লেবানন, জর্ডান, সিরিয়া, কুয়েতের বিভিন্ন ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এ ছাড়া নিজ দেশ রোমানিয়া ও মরক্কোয় কোচিং করিয়েছেন।

তার অধীনে ২০১০ সালে সিরিয়ার আল-ইত্তিহাদ আলেপ্পো এএফসি কাপের শিরোপা জিতেছিল। সিরিয়ায় দীর্ঘ সময় ক্লাব কোচিংয়ের সুবাদে দুই দফা দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে লেবাননের নেজমাহ এফসিকে ট্রেবল জেতান ভ্যালেরিউ তিতা। তার আগের মৌসুমে লেবাননের সাফা স্পোর্টিং ক্লাব লেবানিজ সুপার কাজ জয় করে এবং লিগে রানার্স-আপ হয়। 

৪-২-৩-১ ফরম্যাট এই কোচের প্রিয় কোচিং দর্শন। এই দর্শনে বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যের ধারাবাহিকতা কতটা রাখতে পারনে তিতা, সেটাই দেখার বিষয়। প্রধান কোচের পাশাপাশি বসুন্ধরা কোচ সেট-পিস কোচ ও ট্রেনারও নিয়োগ দিয়েছে। আগামী মৌসুমে রাকিব, মোরসালিনদের সেট-পিস কোচের দায়িত্বে দেখা যাবে রোমানিয়ার ডোরেল স্টোইচা ও ট্রেনার হিসেবে স্প্যানিস সানচেজের স্থলাভিষিক্ত হবেন খলিল চাকরোন। ৪৬ বছরের স্টোইচার সৌদি আরবের আল ইত্তিহাদ এফসিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ফিটনেস কোচ খলিল সর্বশেষ কাজ করেছেন সৌদি আরবের আল-আইন এফসির হয়ে।

কোচ ভ্যালেরিউ তিতা এখন অপেক্ষায় ঢাকায় আসার বিমান টিকিটের। তার আগে দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দর সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের কথা

প্রশ্ন : নতুন চুক্তির জন্য আপনাকে অভিনন্দন

ভ্যালেরিউ তিতা : অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগছে। একই সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আপনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও ক্লাবে কাজ করেছেন। এখন কেন দক্ষিণ এশিয়ার একটা ক্লাব বেছে নিলেন?

তিতা : আসলে নিয়তিই আমাকে বাংলাদেশে টেনে আনছে। এটা আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ক্লাবটিকে এএফসির টুর্নামেন্টে সাফল্যে পাইয়ে দিতে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন : বসুন্ধরা কিংস বাংলাদেশের গত কয়েক মৌসুমের সবচেয়ে সফল দল। ঘরোয়া সব শিরোপাই একাধিকবার জেতা হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক সাফল্য অধরাই থেকে গেছে। আপনি নিশ্চয় তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেতে সহায়তা করবেন।

তিতা : অবশ্যই আমি আমার সেরা চেষ্টাটা করব কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে। সেটা ঘরোয়া ফুটবল হোক কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

প্রশ্ন : ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে আপনি ৪-৩-২-১ ফরমেশনটা ভীষণ পছন্দ করেন। আপনার কোচিং দর্শন সম্পর্কে আরও একটু বলবেন কি?

তিতা : দেখুন, আমার পছন্দের ফরম্যাটেই যে সব সময় খেলতে হবে সেটা নয়। খেলার ফরম্যাট কিংবা সিস্টেমটা নির্ভর করে আপনার কাছে কেমন ফুটবলার আছে এবং তাদের সামর্থ্য কী তার ওপর। আসলে ফরমেশনটা আপনিতেই তৈরি হয়ে যায়।

প্রশ্ন : আগের কোচ বিদায়ের পর থেকেই বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের ভবিষ্যৎ বস কে হবেন তা জানতে। শেষ পর্যন্ত জানা হয়ে গেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি বিশেষ কোনো বার্তা কী থাকবে?

তিতা : আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই হ্যালো খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা, আমার বিশ্বাস আমরা সবাই মিলে ভীষণ দারুণ দীর্ঘ একটা সময় কাটাব এবং অনেক অনেক উপভোগ করব। সবাইকে আমার আগাম শুভেচ্ছা।

প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে সামনা-সামনি দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম।

তিতা : আমিও। আর আমাকে নিশ্চয় সাহায্য করবেন। যেটা ভীষণ জরুরি। কারণ বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। আশা করছি আপনারা আমাকে অনেক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।