বানের পানিতে ভেসে গেল বৃদ্ধা জরিনার মাথা গোঁজার ঠাঁই

বৃদ্ধা জরিনা বেগমের (৬৫) চোখে-মুখে যেন দুঃস্বপ্ন। সর্বনাশা বন্যা তার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়েছে। এখন তার মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে কিছুই নেই। ভয়াবহ বন্যায় প্রচণ্ড পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঘর।  

বৃদ্ধা জরিনা বেগম জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী ইউনিয়নের মুরাদাবাদ গ্রামের মৃত ছুরমান আলীর স্ত্রী। 

বন্যায় প্লাবিত মুরাদাবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা জরিনা বেগম ঘরের ভাঙা চালার সামনে পানির মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। এখন কোথায় থাকবেন—তা নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই।

কষ্টের কথা জানান দিয়ে বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, ‘১০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল, তাও বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। এখন তিনি কী করবেন—কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে আমি একা থাকি। ঘরে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ ঘরটা মোচড় দিলো। ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম। কিন্তু একটা জিনিসও বের করতে পারিনি। হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে।’ 

বৃদ্ধা জরিনা বেগমের প্রতিবেশীরা জানান, তার হাতে কোনো টাকা নেই। খাবার দিয়ে কেউ কেউ তাকে সহায়তা করছেন। কিন্তু নতুন ঘর তুলতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এ অবস্থায় প্রশাসনের সহায়তা পেলে তার খুবই উপকার হবে।  

এ প্রসঙ্গে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। কেউ আমাকে বলেননি। আমাদের কাছে টিন আছে। ঘর তুলে দেওয়া যাবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।’