ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল সিএনজি, প্রাণ হারালেন ফুপু-ভাতিজা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী সিএনজির সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে মহাসড়কের মিলিটারি পুল এলাকার পটিয়া প্রান্তে  এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নাইখাইন গ্রামের মো. আলীর মেয়ে রুমি আকতার (৩২) ও একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নিহত রুমির ভাতিজা ফাহিম (৫) ও সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেন (৫৭)। নিহত রুমি ও ফাহিম সম্পর্কে ফুফু-ভাতিজা।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় তারেক মুরাদ চৌধুরী বলেন, বোয়ালখালী থেকে ছেড়ে আসা পটিয়া অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী সিএনজি মিলিটারি পুল অতিক্রম করে পটিয়া অংশে পার হওয়ার পথেই বিপরীত দিক থেকে কালুরঘাটের দিকে যাওয়া দ্রুতগামী একটি ট্রাক যাত্রীবাহী সিএনজিকে চাপা দিলেই ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে যোগ দেন। এসময় ঘটনাস্থলে নিহত নারী ও শিশুর লাশ দুটি পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে তাদের পরিচয় শনাক্তের পর লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, রাতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজি থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় এক নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়। তাদের স্বজনরা এসে নাম পরিচয় শনাক্ত করার পর শুক্রবার সকালে লাশগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

নিহত শিশু ফাহিমের বাবা ও নিহত রুমি আকতারের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও ছোট বোন রুমি আকতার চট্টগ্রামের বাহির সিগনাল এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার ডিউটি শেষে তারা বাসায় গিয়ে আমার ছেলে ফাহিমকে নিয়ে পটিয়ার নাইখাইন গ্রামের বাড়িতে আসার পথেই রুমি ও ফাহিম ঘটনাস্থলে মারা যায়। এসময় আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগম আহত হয়ে বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ২৬ নং অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক। জুমার নামাজের পর তাদের মরদেহ নামাজে জানাজা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।  

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে শুক্রবার সকালে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি থানা হেফাজতে আছে।