‘শান্ত’ থাকতে পারবেন তো মেসি

গত ১০ বছরে আটটি বৈশ্বিক ফুটবল প্রতিযোগিতার ছয়টিরই ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। এই ধারা শুরু হয়েছিল সেই ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়ে। ১০ বছর বাদে কোপা আমেরিকার আরও একটি ফাইনালে নামতে যাচ্ছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। মাঝে শুধু পারেননি ২০১৮ বিশ্বকাপ ও ২০১৯ কোপার ফাইনাল খেলতে। সোমবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি হতে যাচ্ছে মেসির ১০ম ফাইনাল। যার মধ্যে পাঁচটিতেই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন। এর সঙ্গে ক্লাব ক্যারিয়ারে প্রাপ্তির সুদীর্ঘ ইতিহাস তো রয়েছেই। বিশ্বকাপ এবং কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নও এখন তিনি ও তার বাহিনী। তাই ‘ফাইনাল’ শব্দটি এখন আর কোনো স্নায়ুচাপ তৈরি করে না মেসির ওপর। উল্টো ক্যারিয়ারে সায়াহ্নবেলায় এসে প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করেই কাটাতে চান জাদুকর।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সোমবার সকাল ৬টায় লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। গোটা দলও এখন অবস্থান করছে মায়ামিতে। এ শহরটি মেসির নিজের। স্পেন, ফ্রান্স পেরিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস তার। ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে খোলাসা করেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। বলেন, ‘আমি শান্ত আছি। বরাবরের মতো (ফাইনালের) দিনটির অপেক্ষায় আছি। আমরা যা কিছু পার করেছি এবং যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, এর কারণে আমি আগের চেয়ে অনেক শান্ত আছি। আমি বিষয়গুলো আরও বেশি উপভোগ করার চেষ্টা করছি এবং প্রতিটি মুহূর্তে আনন্দে বাঁচার চেষ্টা করছি, তাড়াহুড়া একদমই করছি না। কেবল নির্দিষ্ট মুহূর্তটি উপভোগ করছি এবং যখন খেলার সময় হবে, তখন আমরা ম্যাচটি কেমন হতে চলেছে, সেদিকে মনোনিবেশ করব।’

তবে মেসি শান্ত থাকলেও আর্জেন্টিনা যে একেবারেই নির্ভার, তা বলার জো নেই। মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের আগে কলম্বিয়ার ভয়ংকর কিছু ক্ষমতার বিপরীতে পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে মেসিদের। এর মধ্যে প্রথমটিই হলো কলম্বিয়ার সেট পিসের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান। কলম্বিয়ার শুরুর একাদশের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়টি হলেন ৬ ফুট ১ ইঞ্চির ডেভিনসন সানচেজ। অবশ্য ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির ইয়েরি মিনা কলম্বিয়া দলের সবচেয়ে লম্বা ফুটবলার হলেও এ আসরে তিনি মাঠে ছিলেন সাকল্যে ৭৯ মিনিট। সেটপিসের ক্ষেত্রে ফুটবলের চিরায়ত নিয়মই হলো যারা আগে বল ছুঁতে পারবেন, ফল যাবে তাদের পক্ষে। এদিক দিয়ে ঢের এগিয়ে কলম্বিয়া। এবারের আসরে ৫টি গোল তারা আদায় করেছে হেডারের মাধ্যমে। ১৯৯১ আসরে আর্জেন্টিনা ৬ গোল করেছিল হেডে। সেই রেকর্ড ছুঁতে আর একটি হেডগোল প্রয়োজন তাদের।

কোচ লিওনেল স্কালোনির দুশ্চিন্তার আরেকটি অনুষঙ্গ হতে পারে ছন্দময় হামেশ রদ্রিগেজ। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। এরই মধ্যে এবারের আসরে ৬টি গোলের জোগান দিয়ে হামেশ ছাপিয়ে গেছেন খোদ মেসিকে। কলম্বিয়ার আক্রমণের ফলা লুইস দিয়াজকে নিয়েও বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন পড়বে আলবিসেলেস্তেদের। জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ খুঁজে-বেছে তাকে লিভারপুলে নিয়েছিলেন। কেননা তিনি জানতেন দিয়াজ সাধারণ কোনো খেলোয়াড় নন। কলম্বিয়া দলটির সবচেয়ে চৌকস এবং ড্রিবলিংয়ে পারদর্শী উইঙ্গার হলেন তিনি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরেও দিয়াজকে আক্রমণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছিলেন নেসতর লরেঞ্জো।

তাই ফাইনালের আগে এমন একটি দলের প্রশংসা করেছেন মেসিও। হামেশ রদ্রিগেজ, লুইস দিয়াজদের নিয়ে গড়া দলটিকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই ভাবছেন, ‘আমরা উরুগুয়ে-কলম্বিয়া ম্যাচ দেখেছি। আমরা জানতাম, দুই দলই কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। কিছু কারণে কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে হারেনি, তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে, খুব তীব্রতা নিয়ে খেলে, তাদের দ্রুত ও গতিশীল ফুটবলার আছে। তবে এটা ফাইনাল। ফাইনাল সব সময়ই ভিন্ন ধরনের খেলা। পুরো আসরের মতোই আমরা ভালো অবস্থায় আছি।’ আটবার ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি তাই কোনো পক্ষকে ফেভারিট মানতে নারাজ। তবে মনে মনে আরও একটি শিরোপার স্বপ্ন হয়তো ঠিকই বুনে চলেছেন।