এক যুগ পর আবারও ইউরোর ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এবারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। যারা ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর এ পর্যন্ত আর কোনো ট্রফি জেতেনি। প্রথমবার ইউরোর শিরোপা পাওয়ার আশায় আছেন বেলিংহ্যাম-কেইনরা। তবে ফাইনালের আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন!
আপনি হয়তো ভাবছেন ম্যাচ খেলার আগে কীভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়, নাকি আগে থেকেই সব ঠিক হয়ে গেছে যে ফাইনালে হারবে ইংল্যান্ড। আসলে সে রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। এমনটি বলা হচ্ছে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে। ২০০২ থেকে ২০২৪ এই ২২ বছরে বড় টুর্নামেন্টে ২৬টি ফাইনাল খেলেছে স্পেনের দলগুলো। বড় টুর্নামেন্ট বলতে জাতীয় দল পর্যায়ের ফিফা বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, আর ক্লাব পর্যায়ের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপা লিগ। স্পেনের দলগুলো বলতে বোঝানো হচ্ছে স্পেনের জাতীয় দল ও ক্লাবগুলো। ২২ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এ সময়ে স্প্যানিশ দলগুলো ২৬টি ফাইনালের ১টিতেও হারেনি, জিতেছে সব কটিতেই। স্পেন জাতীয় দল এবারের ইউরোতে আছে দারুণ ফর্মে। ফাইনালের আগ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে স্পেন গোল করেছে ১৩টি। ফাইনালে ওঠার পর স্পেনের ডিফেন্ডার দানিয়েল ভিভিয়ান বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা অনুভব করছি, যেন আমরাই চ্যাম্পিয়ন।’ অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে গতবারের স্প্যানিশ কাপ জয়ী ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার চলতি বছরের শুরুতে ডাক পান জাতীয় দলে। ভিভিয়ানের কথাটি যেন শুধু মন্তব্যই নয়; স্পেন দলের আবহ, খেলোয়াড়দের মনের মধ্যে বয়ে চলা রোমাঞ্চের বহিঃপ্রকাশও। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ইংল্যান্ড। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ (৩টি) শিরোপাজয়ী স্পেনের সামনে সুযোগ রেকর্ডটা নিজেদের করে নেওয়ার। আর টানা দুইবার ফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড প্রথম এই ট্রফির স্বাদ নেওয়ার অপেক্ষায়।
দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে ভিভিয়ান বলেন, ‘দিন শেষে আমরা সবাই ভালোর জন্য কাজ করি। সবার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে এবং এটা ভালো দিক যে সবাই তাদের ভিন্ন ভিন্ন সামর্থ্য দেখাচ্ছে, কিন্তু সবাই একই ছক অনুসরণ করছে, যাতে সবকিছু ঠিকঠাক হয়।’