দেশে সরকারি পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ এবং মা-শিশু স্বাস্থ্য ও কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে মা ও শিশুদের এসব সামগ্রী সরবরাহ করে। বর্তমানে ৯ ধরনের উপকরণ ও ওষুধ কোনো উপজেলা গুদামে নেই। গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আট ধরনের সামগ্রীর মজুদ শূন্যপ্রায়। এ ছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর মজুদও চাহিদা ও সরবরাহ অনুপাতে কম।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইনের তথ্য অনুযায়ী, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ এড়াতে ব্যবহৃত উপকরণ এমআরএম (প্যাক) নেই ৪৫২ উপজেলা গুদামে। বাকি উপজেলায় যা আছে তা দিয়ে বড়জোর এক মাস চলবে।
স্যানিটারি ন্যাপকিন নেই ৪৫৫ উপজেলা গুদামে ও ১৪ উপজেলায় মজুদ শূন্যপ্রায়। অবশিষ্ট ৩৬ উপজেলায় যে পরিমাণ উপকরণ আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই মাস চলবে। অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই এর সরবরাহ মাসে আড়াই হাজারে নামিয়ে এনেছে। অথচ গত বছর মে মাসে ছয় হাজারের বেশি ও এ বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ছয় হাজার উপকরণ সরবরাহ করেছিল। নারী-কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য ও নারীদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব বন্ধে এটি ব্যবহার করা হয়।
এমআর কিট নেই ৪৫৫ উপজেলা গুদামে আর ১৪ উপজেলার মজুদ শেষের দিকে। বাকি ৩০ উপজেলায় মজুদ উপকরণ দিয়ে সর্বোচ্চ দুই মাস চলবে। গত বছর ডিসেম্বরে ৪৭৬ কিট সরবরাহ করে অধিদপ্তর। পরে মজুদ কমে যাওয়ায় গত মাসে সরবরাহ নেমে আসে ১২৬ কিটে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত ঘটাতে ব্যবহৃত এমআর কিট, দুটি ওষুধের সমন্বয়ে এক ধরনের চিকিৎসা।
অন্তঃসত্ত্বাদের ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ রোধ করতে গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত জেন্টামাইসিন ইনজেকশন নেই ৪৪৬ উপজেলায় ও ১০ উপজেলায় মজুদ শেষের দিকে। বাকি ৩৯ উপজেলায় যে পরিমাণ ইনজেকশন আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই মাস চলবে।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে