বিএসএমএমইউ

শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যে গুরুতর অভিযোগ জানালেন শিক্ষক 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এমডি কোর্সের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছেন অ্যানেসথেশিয়া, অ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামাল হোসেন। শরিফ উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের মেডিকেল অফিসার। 

গত ৪ জুলাই শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হকের কাছে সহযোগী অধ্যাপক কামাল হোসেন লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ বছরে এমডি কোর্সের কোনো ক্লাস করেননি শরীফ, এমনকি অপারেশন থিয়েটার প্লেসমেন্টেও অংশ নেননি। তিনি যে থিসিস জমা দিয়েছেন, তাও সম্পূর্ণ ভুয়া। শরীফ উদ্দিনকে কখনো অপারেশন থিয়েটারেও দেখেননি বলে জানান এই শিক্ষক। 

অধ্যাপক কামাল হোসেন বিভাগীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘শরীফ উদ্দিনের লগ ইন বইয়ে স্বাক্ষর দিতে না চাইলে বিভাগীয় চেয়ারম্যান আমাকে হুমকি দেন এবং স্বাক্ষর দিয়ে থিসিস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।’

এর আগে একইভাবে অনৈতিক উপায়ে এমডি কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন বিএসএমএমইউয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. পবিত্র কুমার সরকার। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরে ‘ক্লাস করেন না পরীক্ষায় ফেল তবুও তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

নিয়ম অনুযায়ী, এমডি কোর্সের একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাছুটি নিয়ে পূর্ণকালীন আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করতে হয়। শিক্ষাছুটিতে থাকা অবস্থায় তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা কিংবা কর্মক্ষেত্রে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে এসব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত ক্লাস না করে, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা না দিয়ে ও গবেষণা না করেই থিসিস পেপার জমা দিলেও চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছেন শরীফ উদ্দিন। 
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, 

নিয়ম ভেঙে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণত পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখে। এরপরও যদি কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে এবং কেউ ইউজিসি বরাবর অভিযোগ করে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিই। এ রকম অনৈতিক উপায়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি বিষয়ে আমার জানা ছিল না, কমিশন খোঁজ নিয়ে দেখবে।’