মধ্যরাতে বেরোবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি চীন সফর শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের প্রতিবাদে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করলে এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সাথে ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দুটি আবাসিক হল, ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দার পাড়া, পার্ক মোড়, চকবাজার ও লালবাগ থেকে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা এবং কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দারপাড়া  থেকে বের করা মিছিলটি পার্ক মোড়, চকবাজার ঘুরে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে মিছিল করেন। পরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি ও রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় বেরোবির শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তালা ভেঙ্গে ছাত্রীরাও আন্দোলনে যোগ দেন এবং মডার্ণ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।

মিছিলের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখে ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এ সময়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা হল থেকে রামদা, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল ও লাঠি ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটলে ২ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ৪ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীসহ আহত হন অন্তত ৬ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতদের মধ্যে বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাকিব আল হাসান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাসুদুল, ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শাকিল। এখনও পর্যন্ত আহত আন্দোলনকারীদের পরিচয় জানা যায়নি। 

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আহসান হাবিব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা শেষ করে মেয়েদের হলে দিয়ে আসি। আসার পথে ক্যাফের সামনে রাস্তায় ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের একজনের মাথা ফেটে যায় এবং একজন গুরুতর আহত হন। 

এ বিষয়ে কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সোহাগ জানান, দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী কিভাবে আমাদের সবাইকে রাজাকার বলতে পারেন। তিনি প্রমাণ করে দেখাক যে আমরা রাজাকার।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে বাধা দেইনি, আন্দোলনে হলের অনেক শিক্ষার্থী গিয়েছে তাদেরকে আমরা বাঁধা প্রদান করিনি। তবে এই আন্দোলনে কারমাইকেল কলেজসহ বহিরাগত অনেকে প্রবেশ করে  বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রী ছাউনি ভেঙে ফেলেছে। আমরা প্রতিহত করতে গেলে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে ছাত্রলীগের কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছে।