আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রকৌশলসহ নানা রকম বিষয় আছে। কোন বিষয়ে পড়বেন সে বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ পরবর্তী সময় এই পড়াশোনাই পেশা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। কৃষিপ্রধান আমাদের এ দেশে একজন কৃষিবিদ হিসেবে ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখতে পারা গৌরব এবং আনন্দেরও। তা ছাড়া কৃষি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধার কারণে কৃষি বিষয়ে পড়ালেখা করে দেশ-বিদেশে ভালো মানের চাকরি করার সুযোগ বাড়ছে। ইদানীং ভেষজ ওষুধ উৎপাদনেও কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সম্ভাবনাময় পদচারণা শুরু হয়েছে। এক কথায়, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কৃষিবিদদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
কোথায় পড়বেন
কৃষি নিয়ে পড়তে পারেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ; শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী; হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর; সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট; খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা; হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
যেসব বিষয়ে পড়ানো হয়
ফসলের উৎপাদন, চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই নির্ণয় ও প্রতিরোধ, নতুন নতুন শস্যের জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়ন এবং সর্বোপরি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষিতে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদের অধীন কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হয়। কৃষিতত্ত্ব, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, উদ্যানতত্ত্ব, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন, কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান, ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট, বায়োটেকনোলজি, পরিবেশবিজ্ঞান, সিড সায়েন্স ও টেকনোলজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। সুতরাং একটি ফসলের জন্ম থেকে ফলন ও জাত উন্নয়নে যত বিষয় জড়িত থাকতে পারে, প্রায় সবই পড়ানো হয় কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে।
ভবিষ্যৎ কী
কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম। মৌসুমি ফল উৎপাদনে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া সবজি, ফল, ফসলের জাত উন্নয়নে বিশ্বে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং কৃষি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও খাদ্যনিরাপত্তা (ফুড সেফটি) ও পুষ্টি নিরাপত্তায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। সুস্থ জীবনযাপনে বিষয়টি এখন বিশ্বে অনেক আলোচিত। তাই কৃষিপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। ভেষজ ওষুধ উৎপাদনেও কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সম্ভাবনাময় পদচারণ শুরু হয়েছে। বেসরকারি বীজ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, কৃষি প্রশিক্ষণ প্রকল্পে যুক্ত থেকে নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনের অপার সুযোগ থাকছেই।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
বেসরকারি পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক। বেসরকারি দুগ্ধ ও পোলট্রির খামার, ব্র্যাক, ফিড মিল, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরির সুযোগ আছে। এসবের মধ্যে আড়ং ডেইরি, কাজী ফার্মস, আফতাব বহুমুখী ফার্ম, মিল্ক ভিটা, সিপি ফুড উল্লেখযোগ্য।
উপার্জন
বাংলাদেশে সাধারণত কৃষি সম্পর্কিত যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একজন কৃষিবিদদের বেতন সরকারি স্কেলেই ধার্য করা হয়। তা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রথম অবস্থায় উচ্চ বেতন দিয়ে চাকরি শুরু হয়, যত অভিজ্ঞতা বাড়ে তত পদোন্নতি ও বেতন বাড়ে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অনেক উচ্চমানের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে শুরুতেই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা
কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করে দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। স্কলারশিপ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, কানাডা, মালয়েশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।