চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সফল নারী উদ্যোক্তা ফেরদৌস আক্তার। একজন গৃহিণী থেকে এখন সফল উদ্যোক্তা। ২০২০ সালে স্বামীর অনুপ্রেরণায় মাত্র ১০ কেজি মরিচের গুঁড়া দিয়ে অনলাইনে মসলার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের মাধ্যমে ঘরে বসে ‘কুক মাসালা’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে রাঙ্গুনিয়া থেকে সারা দেশে গুঁড়া মসলা, শিমের বিচি, বিন্নি চাল ও আতপ চালের গুঁড়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর প্রসিদ্ধ মিষ্টি মরিচের গুঁড়া, হলুদ, ধনিয়া, মেজবানি মসলা, বিরিয়ানি মসলা, মাংসের মসলা, জিরাসহ মসলা বিক্রি করে ব্যবসা করছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
২০২০ সালের জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ সময়ে স্বামীর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। দুই সন্তান নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যান। ফেসবুক গ্রুপ ‘উই’-এর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন ফেরদৌস আক্তার। মাত্র ১০ কেজি মরিচের গুঁড়ার ভিডিও আপলোড দেওয়ার পর গ্রুপে সেই দিনই ছয়জন মরিচের গুঁড়ার অর্ডার দেন। প্রতিদিন মরিচ, হলুদ আর মসলার গুঁড়ার অর্ডার বাড়তে থাকে। ওই মাসেই বিক্রি হয় লাখ টাকা। এর পর থেকে ফেরদৌসকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সারা দেশে ফেরদৌসের নিয়মিত ক্রেতা পাঁচ হাজারের ওপরে। পরিবার থেকে ভালোই সহযোগিতা পেয়েছেন। বিশেষ করে আমার স্বামী পারভেজ খুব সহযোগিতা করেন। অনলাইনের মাধ্যমে মাসে এখন প্রায় ১ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করছেন। নিজ এলাকায় সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচের গুঁড়ার চাহিদা বেশি ক্রেতাদের কাছে। তার পণ্যের তালিকায় নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করছেন। রাঙ্গুনিয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রথম শ্রেণির কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর শাখা না থাকায় চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে হয় বলে জানান ফেরদৌস। আগামীতে আমার স্বপ্ন রাঙ্গুনিয়ায় ‘কুক মাসালা’ নামে একটা ফ্যাক্টরি স্থাপন করা। যাতে নিজের পাশাপাশি এলাকার মানুষদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। আর কুক মাসালার সব পণ্য যেন দেশের ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে দিতে পারি।